বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার নগরপাড়া গ্রামে চাকরির পেছনে না ছুটে উন্নত জাতের আমের চারা উৎপাদন ও বিক্রি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন একদল শিক্ষিত যুবক। অনাবাদী ও পতিত জমি লিজ নিয়ে তারা গড়ে তুলেছেন বাণিজ্যিক নার্সারি।
নার্সারিতে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি, কাটিমন, বারি-৪, ব্যানানা ম্যাঙ্গো, কিউজাই ও মিয়াজাকিসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি ও হাইব্রিড জাতের আমের চারা উৎপাদন করা হচ্ছে। আধুনিক কলম বা গ্রাফটিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত এসব চারা দ্রুত ও বেশি ফলন দেয় বলে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।
উদ্যোক্তারা জানান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরামর্শ এবং অনলাইন থেকে জ্ঞান নিয়ে তারা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে স্থানীয় শ্রমিকদেরও জমি প্রস্তুত, কলম বাঁধাই ও পরিচর্যার কাজে কর্মসংস্থান হচ্ছে।
এক উদ্যোক্তা জানান, শুরুতে চ্যালেঞ্জ থাকলেও এখন প্রতি মৌসুমে হাজার হাজার চারা বিক্রি হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকারি অর্ডারও পাওয়া যাচ্ছে।
উদ্যোক্তা রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ১৪–১৫ বছর আগে চারা উৎপাদন শুরু করেন। বর্তমানে ৬–৭ বিঘা জমিতে চারা উৎপাদন করে বছরে খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ৩–৪ লাখ টাকা আয় করেন। চারা উৎপাদন করে তিনি ২–৩ বিঘা জমিও কিনেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেনের মতে, উন্নত জাতের ফল ও চারা উৎপাদনে তরুণদের আগ্রহ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সোনাতলা মানসম্মত আমের চারা উৎপাদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















