ঢাকা ০৩:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

৪৮ ঘণ্টার অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক, বন্ধ পর্যটন, দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দারা

সাজেকে অবরোধ-পাল্টা অবরোধে অচল পরিস্থিতি, খাদ্যসংকট ও নিরাপত্তা শঙ্কায় পর্যটনকেন্দ্র

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যেই নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে সাজেকের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, অন্যদিকে খাদ্য ও ওষুধের সংকট, পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে নতুন এ পাল্টা অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির সমর্থনে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অবস্থান নেন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  জয়পুরহাটের ডিসিকে অপসারণে ছাত্রদলের ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম

সংগঠনটির দাবি, গত ১১, ১৫ ও ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর থেকে সাজেক সড়কে দফায় দফায় অবরোধ চলছে। দীর্ঘদিনের এ কর্মসূচিতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবরোধের কারণে স্থানীয় জুমচাষিরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। ফলে ক্ষেত ও ঘরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে তাঁদের কষ্টের ফসল। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-রোজগারও থমকে গেছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে পাঁচ হিজাবি নারীর ঐতিহাসিক জয়

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির অভিযোগ, আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর প্রভাব ও চাপের কারণে জুমচাষিদের অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আরও পড়ুনঃ  চেক ডিজঅনার মামলায় আইনজীবীদের নতুন ভোগান্তি

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি।

এদিকে অবরোধের প্রভাবে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রমও। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

সব মিলিয়ে পাল্টাপাল্টি অবরোধে সাজেকের জনজীবন, পর্যটনশিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৪৮ ঘণ্টার অবরোধে বিপর্যস্ত সাজেক, বন্ধ পর্যটন, দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দারা

আপডেটের সময়: ১১:১০:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

সাজেকে অবরোধ-পাল্টা অবরোধে অচল পরিস্থিতি, খাদ্যসংকট ও নিরাপত্তা শঙ্কায় পর্যটনকেন্দ্র

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে চলমান অনির্দিষ্টকালের অবরোধের মধ্যেই নতুন করে ৪৮ ঘণ্টার পাল্টা অবরোধ শুরু হয়েছে। এতে সাজেকের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, অন্যদিকে খাদ্য ও ওষুধের সংকট, পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ এবং স্থানীয় মানুষের জীবিকা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ভোর ৬টা থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির নেতৃত্বে নতুন এ পাল্টা অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির সমর্থনে সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অবস্থান নেন। এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সংগঠনটির সদস্য সচিব বিন্দু লাল চাকমার স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৪৮ ঘণ্টার এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ‘কনসার্ট ফর সলিডারিটি’ ঘিরে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে জনসমাগম

সংগঠনটির দাবি, গত ১১, ১৫ ও ২২ থেকে ৩১ অক্টোবর এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর থেকে সাজেক সড়কে দফায় দফায় অবরোধ চলছে। দীর্ঘদিনের এ কর্মসূচিতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটনশিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, অবরোধের কারণে স্থানীয় জুমচাষিরা উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে পারছেন না। ফলে ক্ষেত ও ঘরে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে তাঁদের কষ্টের ফসল। পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়-রোজগারও থমকে গেছে। এতে স্থানীয় অর্থনীতির পাশাপাশি সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কে: কপ-৩১-এ বাংলাদেশের জলবায়ু ক্ষতির জোরালো দাবি”

পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির অভিযোগ, আঞ্চলিক সশস্ত্র দলগুলোর প্রভাব ও চাপের কারণে জুমচাষিদের অবরোধে অংশ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় পাহাড়ের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত হচ্ছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি। দাবি আদায় না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে গত ২২ অক্টোবর থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। সাজেক থেকে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি। তাদের অভিযোগ, সশস্ত্র সদস্যদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

আরও পড়ুনঃ  আ.লীগের বিষয়ে সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ নাহিদের

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়। পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশ্নে ঐকমত্য না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়নি।

এদিকে অবরোধের প্রভাবে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় খাদ্যসামগ্রী ও ওষুধের সংকট বাড়ছে। বন্ধ রয়েছে পর্যটন কার্যক্রমও। নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতির কারণে গত ২২ অক্টোবর থেকে সাজেক পর্যটন ভ্যালিতে পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।

সব মিলিয়ে পাল্টাপাল্টি অবরোধে সাজেকের জনজীবন, পর্যটনশিল্প ও স্থানীয় অর্থনীতি বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্রুত সমাধান না এলে পরিস্থিতি আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।