ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ পে-স্কেল নিয়ে সিদ্ধান্তে দেরি হলে সংকট আরও বাড়বে: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বাংলাদেশের সঙ্গে ৩৪ দেশের ভিসা ছাড়ের চুক্তি, কোন পাসপোর্টে মিলবে সুবিধা? দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাজ্য থেকে আরও ২ কার্গো এলএনজি কিনছে সরকার এআই ব্যবহারে আরও দক্ষ হবে সরকার, সহজ হবে নাগরিক সেবা ফৌজদারি অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা পাচ্ছে এপিবিএন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও সফরে মির্জা ফখরুল কৃষি মৌসুমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৩.৬৫ লাখ টন সার আমদানি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনই বলা যাচ্ছে না: সিইসি আবারও ক্যানসার শনাক্ত, নতুন লড়াইয়ে সামিয়া আফরিন
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

আলুর দামে ধস, প্রতি বস্তায় ৪৬০ টাকা লোকসানে ফুলবাড়ীর কৃষক

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আলুর বাজারে বড় ধরনের দরপতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া এবং বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগারে সংরক্ষিত আলু খালাস করতেও অনীহা দেখাচ্ছেন অনেকে। এতে উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬২ কেজির এক বস্তা আলুতে গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হিমাগারটিতে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু খালাস হয়েছে। এখনও প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে পড়ে রয়েছে।
হিমাগার কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব আলু খালাস না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। গত বছরও বাজারে দরপতনের কারণে প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু হিমাগার থেকে খালাস করেননি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। পরে এসব আলুর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬২ কেজির এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায়। অথচ উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ কৃষকের মোট খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। গড়ে ৯৪০ টাকা দরে বিক্রি হলে প্রতি বস্তায় লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৬০ টাকা।
বাজনাপাড়া গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন ও আমড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, বাজারে আলুর দাম ক্রমাগত কমে যাওয়ায় এখন বিক্রি করলেই বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছে। এতে তারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
এদিকে শুরু হয়েছে আমন ধানের মৌসুম। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরি দিতে কৃষকদের এখন নগদ অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময়ে হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে আমন চাষের খরচ মেটান তারা। কিন্তু আলুর বাজারে মন্দাভাব থাকায় একদিকে হিমাগারে তাদের মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলুর দরপতনের প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। ফুলবাড়ী পৌরবাজারের ব্যবসায়ী বিধান দত্ত ও জয়ন্ত সাহা জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও পরিবহন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় উঠছে না। প্রতি ট্রাকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী আপাতত ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
মৌসুমি ব্যবসায়ী ফেরাজুল ইসলাম ও নূরুল হক জানান, ঋণ নিয়ে আলু কিনে মজুদ করেছিলেন তারা। এখন বাজার পড়ে যাওয়ায় সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় মোট প্রায় ৩৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় মূলত আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে মার্কিন বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

আলুর দামে ধস, প্রতি বস্তায় ৪৬০ টাকা লোকসানে ফুলবাড়ীর কৃষক

আপডেটের সময়: ১২:০৩:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে আলুর বাজারে বড় ধরনের দরপতনে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া এবং বাজারে চাহিদা কম থাকায় হিমাগারে সংরক্ষিত আলু খালাস করতেও অনীহা দেখাচ্ছেন অনেকে। এতে উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ প্রতি ৬২ কেজির এক বস্তা আলুতে গড়ে প্রায় ৪৬০ টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে।
ফুলবাড়ী কোল্ড স্টোরেজ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে হিমাগারটিতে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ২২ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু খালাস হয়েছে। এখনও প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার বস্তা আলু হিমাগারে পড়ে রয়েছে।
হিমাগার কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব আলু খালাস না হলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। গত বছরও বাজারে দরপতনের কারণে প্রায় ৩৫ হাজার বস্তা আলু হিমাগার থেকে খালাস করেননি কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। পরে এসব আলুর বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়।
বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬২ কেজির এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায়। অথচ উৎপাদন, পরিবহন, বাছাই ও হিমাগার ভাড়াসহ কৃষকের মোট খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা। গড়ে ৯৪০ টাকা দরে বিক্রি হলে প্রতি বস্তায় লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪৬০ টাকা।
বাজনাপাড়া গ্রামের কৃষক আলমগীর হোসেন ও আমড়া গ্রামের আব্দুর রশিদ বলেন, বাজারে আলুর দাম ক্রমাগত কমে যাওয়ায় এখন বিক্রি করলেই বড় অঙ্কের লোকসান হচ্ছে। এতে তারা আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছেন।
এদিকে শুরু হয়েছে আমন ধানের মৌসুম। জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ, সার ও শ্রমিকের মজুরি দিতে কৃষকদের এখন নগদ অর্থের প্রয়োজন। সাধারণত এ সময়ে হিমাগারে রাখা আলু বিক্রি করে আমন চাষের খরচ মেটান তারা। কিন্তু আলুর বাজারে মন্দাভাব থাকায় একদিকে হিমাগারে তাদের মূলধন আটকে আছে, অন্যদিকে আমন চাষের খরচ জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
আলুর দরপতনের প্রভাব পড়েছে ব্যবসায়ীদের ওপরও। ফুলবাড়ী পৌরবাজারের ব্যবসায়ী বিধান দত্ত ও জয়ন্ত সাহা জানান, বিভিন্ন বাজারে আলু পাঠিয়েও পরিবহন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় উঠছে না। প্রতি ট্রাকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। ফলে অনেক ব্যবসায়ী আপাতত ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছেন।
মৌসুমি ব্যবসায়ী ফেরাজুল ইসলাম ও নূরুল হক জানান, ঋণ নিয়ে আলু কিনে মজুদ করেছিলেন তারা। এখন বাজার পড়ে যাওয়ায় সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ফুলবাড়ী উপজেলায় ১ হাজার ৪৮০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় মোট প্রায় ৩৭ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় মূলত আলুর দাম কমেছে। বাজার সচল করা এবং কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত পণ্যের যৌক্তিক দাম পান, সে বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে সমন্বয় করে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, শুরু হলো আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক কার্যক্রম