
সাইবার হামলার শিকার হয়ে যুক্তরাজ্যের একটি ছোট বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র চার দিন বন্ধ রাখতে হয়েছে। হামলাটি ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা চালিয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই ঘটনায় জাতীয় বিদ্যুৎ বা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, গত জুলাইয়ে এই সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার শিকার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নাম ও অবস্থান প্রকাশ করেনি ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টারও (এনসিএসসি) হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।
তবে এনসিএসসি জানিয়েছে, এটি বড় কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বা জরুরি পরিষেবার ওপর হামলা ছিল না। ঘটনাটি একটি ছোট উৎপাদনকেন্দ্রের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলেছিল।
যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর এনার্জি সিকিউরিটি অ্যান্ড নেট জিরো (ডিইএসএনজেড) জানিয়েছে, হামলার কারণে কেন্দ্রটি চার দিন বন্ধ ছিল। তবে দেশের বৃহত্তর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার ওপর কোনো সময়ই বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি।
যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কে এমন বেশ কয়েকটি ছোট গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলো সাধারণত বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেলে স্বল্প সময়ের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।
ঘটনার পর বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ডিইএসএনজেড। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সাইবার হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় বিদ্যুৎ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করা হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করছে। এ কারণে দেশটির সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নিয়মকানুন আরও আধুনিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে জ্বালানি খাতের স্থিতিস্থাপকতা বাড়াতে একটি নতুন কৌশল প্রণয়ন করা হবে।
ইরানকে দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বের অন্যতম সক্ষম সাইবার শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পর পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার আশঙ্কা আরও বেড়েছিল।
এখন পর্যন্ত এ ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্রে সাম্প্রতিক ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















