দীর্ঘ ১৬৬ দিন নেতৃত্বশূন্য থাকার পর নতুন কমিশনের মাধ্যমে আবারও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে বুধবার নতুন কমিশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
সকাল ৯টার দিকে নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান এবং দুই কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম খান ও সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া দুদক কার্যালয়ে উপস্থিত হন। পরে সকাল ১০টায় তারা দুদকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় দুদক সচিব সাইদুর রহমান, মহাপরিচালকসহ উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৬৬ দিন পর নতুন কমিশন
এর আগে দুদকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন এবং দুই কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাফিজ আহসান ফরিদ গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে প্রায় ১৬৬ দিন নেতৃত্বশূন্য ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নতুন চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ৬(১) ধারা অনুসারে তিনজনকে প্রথমে কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে একই আইনের ৫(১) ধারা অনুযায়ী তাদের মধ্য থেকে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে চেয়ারম্যান করা হয়।
দুদক আইন অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে নতুন কমিশনের সদস্যরা পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করবেন।
কে এই এ কে এম আসাদুজ্জামান?
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি হিসেবে অবসর নেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতে আইন পেশা শুরু করেন তিনি। এরপর ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট স্থায়ী বিচারপতি হন। পরে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।
নতুন কমিশনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ
নতুন কমিশনের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ নেতৃত্বশূন্যতার অবসান হলেও দুদকের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য করা। বিশেষ করে দুর্নীতির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগে নতুন কমিশনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রতিবেদকের নাম 





















