গুরুত্বপূর্ণ সভায় আমন্ত্রণ জানানোর পরও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা প্রকৌশলীদের অনেকে উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এ সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘মন্ত্রী বড়, নাকি স্থানীয় সংসদ সদস্য বড়?’
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এলজিইডি ভবনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
সভায় কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে তাদের দায়িত্ববোধ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সভায় ডাকার পরও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিত থাকা গ্রহণযোগ্য নয়।
রাঙামাটি জেলার কর্মকর্তাদের একসঙ্গে দাঁড়াতে বলেন তিনি। জেলায় ১০টি উপজেলা থাকলেও উপস্থিত কর্মকর্তাদের গুনে তিনি জানতে চান, বাকি কর্মকর্তারা কোথায়। একজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্বে আছেন জানানো হলে তার অবস্থান ও দায়িত্ব সম্পর্কেও জানতে চান প্রতিমন্ত্রী।
একপর্যায়ে জানানো হয়, ওই জেলার একজন নির্বাহী প্রকৌশলী স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে একটি সভায় আছেন। তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো উপজেলা বা এলাকার উদ্বোধন নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য কিছু বললে কর্মকর্তাদের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। তবে গুরুত্বপূর্ণ সভায় স্থানীয় সংসদ সদস্যকে মন্ত্রী, সচিব ও প্রতিমন্ত্রীর চেয়ে বড় মনে করে অনুপস্থিত থাকা যাবে না।
বিভিন্ন জেলার উপস্থিতি যাচাই
এরপর বান্দরবান জেলার কর্মকর্তাদের দাঁড়াতে বলেন প্রতিমন্ত্রী। জেলার সাতটি উপজেলার মধ্যে মাত্র একজন কর্মকর্তা দাঁড়ানোয় তিনি জানতে চান, বাকিরা কোথায়। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিষয়েও তিনি খোঁজ নেন।
একইভাবে খাগড়াছড়ি, নেত্রকোনা ও অন্যান্য জেলার কর্মকর্তাদের উপস্থিতি যাচাই করেন তিনি। তার মন্তব্য, প্রায় প্রতিটি জেলাতেই দু-তিনজন করে কর্মকর্তা সভায় অনুপস্থিত রয়েছেন।
সভায় জানানো হয়, মোট ৫০৩ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৪৪০ জন উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের সংখ্যা এবং নির্বাহী প্রকৌশলীদের উপস্থিতির বিষয়েও খোঁজ নেন প্রতিমন্ত্রী। কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাহী প্রকৌশলীরা সবাই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
অনুপস্থিত কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ
একজন উপজেলা প্রকৌশলী সভায় উপস্থিত না থাকায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। সন্তোষজনক জবাব না দিলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মকর্তাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সভা করা হচ্ছে। এমন সভায় অনুপস্থিত থাকার সুযোগ নেই। তিনি কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলভাবে সভায় উপস্থিত থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সোলার প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা
মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সভায় প্রতিমন্ত্রী ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, হাটবাজারসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বাড়ানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। নিজ নিজ দপ্তরে সোলার প্যানেল স্থাপনে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব শহীদুল হাসান, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী, চলমান প্রকল্পগুলোর প্রকল্প পরিচালক এবং উপজেলা প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















