পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে ১২ বছরের এক শিশু ও তার মাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও আইনজীবী হাফিজুর রহমান চুন্নুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
মারধরের পর আতঙ্কে ওই শিশু ও তার মা চার দিন বাড়ি থেকে বের হতে পারেননি বলে জানা গেছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এর আগে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাকামইয়া ইউনিয়নের গামুরবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটির নাম জিসান (১২)। সে ওই গ্রামের মৃত বাচ্চু হাওলাদারের ছেলে। তার মা নাজমা বেগম।
নাজমা বেগম জানান, প্রায় দেড় বছর আগে তার স্বামী বাচ্চু হাওলাদার মারা যান। এর আগে জমি বন্ধক রাখার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান চুন্নুর ছোট ভাই আবদুল হাইকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তার স্বামী। তবে এ লেনদেনের কোনো লিখিত কাগজ ছিল না।
নাজমার দাবি, স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি ওই টাকা লেনদেনের লিখিত প্রমাণ চেয়ে কয়েকবার আবদুল হাইয়ের কাছে যান। এতে চুন্নু ও তার ভাই ক্ষুব্ধ ছিলেন। বৃষ্টির কারণে সড়কে কাদা থাকায় চুন্নুর বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন তারা।
নাজমা বলেন, শুক্রবার চুন্নু ও তার ভাই জিসানকে তাদের ঘরে ডেকে নেন। সেখানে মানিব্যাগ চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের লাঠি দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। জমি বন্ধকের এক লাখ টাকা দেওয়ার লিখিত প্রমাণ চাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে অভিযোগ তার।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, সকালে শিশুটি ও তার মা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুজনের শরীরেই আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আঘাতের স্থানগুলো কালো হয়ে গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ওই ছেলে চুরি করে বেড়ায় এবং ঘটনার দিনও চুরি করেছে। এরপর তিনি প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রশাসন তাকে ‘দুই একটা পিডান পুডান’ দিয়ে ছেড়ে দিতে বলেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
শিশুটির মাকে কেন মারধর করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, তারা এলাকায় চুরি করে বেড়ায় এবং বিষয়টি সবাই জানে। তিনি ওই শিশুর মাকে নিজের ভাগ্নি উল্লেখ করে ছেলেকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন বলে জানান।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এমন কোনো ঘটনা সম্পর্কে তাকে জানানো হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো কথা বলা হয়নি বলেও জানান তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 
























