
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের প্রায় অর্ধেক সক্ষমতা কয়েক দিনের মধ্যে চালু করতে চায়। আর পুরো পাইপলাইনটি প্রায় ছয় সপ্তাহের মধ্যে সচল করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।
বুধবার সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করে ব্লুমবার্গ। সূত্রটি জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ এড়িয়ে পাইপলাইনের বিকল্প ব্যবস্থা তৈরির কাজ করছে আরামকো। এর মাধ্যমে দ্রুত আংশিকভাবে তেল পরিবহন শুরু করা সম্ভব হবে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিরাপত্তা ও তেলশিল্পের কয়েকটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, হামলায় পাইপলাইনটির দুটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে মেরামতের কাজ শেষ হতে কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট ফক্স বিজনেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন করা হচ্ছে। শিগগিরই এটি আবার চালু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেল উৎপাদন এলাকা থেকে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে অপরিশোধিত তেল পরিবহন করে। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে তেল রপ্তানি করা যায়।
আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, পাইপলাইনটির দৈনিক তেল পরিবহন সক্ষমতা প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল। এর মধ্যে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল সৌদি আরবের বিভিন্ন শোধনাগারে সরবরাহ করা হয়।
শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। দেশটির দাবি, হামলাটি ইরাকের ভেতর থেকে পরিচালিত হয়েছিল। এতে কয়েকজন আহত হন এবং পাইপলাইনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ইরানপন্থি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।
মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে তেল পরিবহন বাড়ানো হলে হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নের কিছুটা প্রভাব কমানো সম্ভব হতে পারে। বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্ত করেছে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে তেল শোধনাগারের সক্ষমতা বাড়াতে প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইন ব্যবহারের বিষয়টিও ট্রাম্প প্রশাসন বিবেচনা করছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















