সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ, বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এসব অভিযোগ ও চলমান অনুসন্ধান নিয়ে আজ ফেসবুক লাইভে বিস্তারিত কথা বলবেন আসিফ মাহমুদ।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এনসিপির মিডিয়া সেল এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছে।
সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক লাইভ
দলের মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে তিনি আজ সন্ধ্যা ৭টায় ফেসবুক লাইভে আসবেন।
লাইভে তিনি দুদকের অনুসন্ধান এবং নিজের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানিয়েছে দলটি।
কী অভিযোগ করেছে দুদক?
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ তানজির আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা নতুন অভিযোগগুলো চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬টি জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার প্রক্রিয়াতেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের কথা জানিয়েছে দুদক।
বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ
দুদকের অভিযোগের তালিকায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রামীণ অবকাঠামো ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
একইভাবে ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে আসিফের ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য
এসব অভিযোগ শুরু থেকেই অস্বীকার করে আসছেন আসিফ মাহমুদ। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০% দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’
এর আগে তিনি অভিযোগগুলোর বিভিন্ন তথ্য ও পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন।
এখন দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে সরাসরি ফেসবুক লাইভে তাঁর বক্তব্য কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।
প্রতিবেদকের নাম 




















