
‘দুঃখিত লিও’, বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব, হতাশার বিদায় মেসি-আর্জেন্টিনার
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। নিউ জার্সির ফাইনালে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল শিরোপা জিতলেও, সবচেয়ে বড় আলোচনায় ছিল লিওনেল মেসির অশ্রুসিক্ত বিদায় এবং আর্জেন্টিনার বিতর্কিত পারফরম্যান্স।

গোলডটকমের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পুরো ম্যাচে বলের নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণ এবং কৌশলগত ফুটবলে স্পেনই ছিল এগিয়ে। অন্যদিকে আর্জেন্টিনা বারবার শারীরিক সংঘর্ষ ও কঠোর ট্যাকলের আশ্রয় নেয়, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্যই কাল হয়ে দাঁড়ায়।

ম্যাচের ৯৩ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পর অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের পাস থেকে জয়সূচক গোল করেন বদলি ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেস। সেই একমাত্র গোলেই ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপ ট্রফি স্পেনের ঘরে ওঠে।

পুরো টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা লিওনেল মেসি ফাইনালে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। স্পেনের নিয়ন্ত্রিত রক্ষণ এবং আর্জেন্টিনার অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক কৌশলের কারণে তিনি গোল বা অ্যাসিস্ট—কোনোটিতেই অবদান রাখতে পারেননি। ফলে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি শেষ হয় চোখের জলে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আর্জেন্টিনার কয়েকজন ফুটবলারের অতিরিক্ত আগ্রাসী আচরণ দলটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড এবং লিয়ান্দ্রো পারেদেসের আচরণ ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

অন্যদিকে স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের কৌশল ও বদলি খেলোয়াড়দের ব্যবহার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধে নামা পেদ্রি, নিকো উইলিয়ামস, মিকেল মেরিনো এবং ফেরান তোরেস স্পেনের আক্রমণে নতুন গতি এনে দেন। শেষ পর্যন্ত তোরেসের গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের ঐতিহাসিক শিরোপা।

বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বকাপ ফাইনালের পারফরম্যান্স ব্যালন ডি’অর দৌড়েও প্রভাব ফেলতে পারে। মেসি ও লামিনে ইয়ামাল প্রত্যাশামতো উজ্জ্বল হতে না পারায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।

তবে ম্যাচের পাশাপাশি আয়োজকদেরও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। নিউ জার্সির স্টেডিয়ামের পিচের মান এবং ম্যাচ ঘিরে অতিরিক্ত বাণিজ্যিক আয়োজন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সূত্র: গোলডটকম
প্রতিবেদকের নাম 




















