
বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে ২ হাজার ৩০০ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
পাশাশি কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৪ হাজার ৮১৭ একর বনভূমি ইজারা দেওয়ার কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী।
রোববার জাতীয় সংসদে হবিগঞ্জের বনভূমি দখল নিয়ে সংরক্ষিত আসনের মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তারের প্রশ্নে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর পক্ষে জবাব দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
হবিগঞ্জের মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় কোনো ব্যক্তিকে বনভূমি ইজারা হয়েছে কিনা, জানতে চান সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার।
জবাবে বন প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বনভূমি কোনো ব্যক্তিকে লিজ দেওয়ার বিধান নেই বিধায় হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় কোনো ব্যক্তিকে বনভূমি লিজ প্রদান করা হয়নি।”
তিনি বলেন, সরকারি স্বার্থে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের রাবার বাগানের জন্য ৪৭৫২ একর, গ্যাস ফিল্ড কোম্পানিকে ৪৫ দশমিক ৩৯ একর, টেলিফোন ও টেলিগ্রাফের জন্য ৬ একর এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে ১৩ দশমিক ৬৩ একর দেওয়া হয়েছে। মোট ইজারা দেওয়া হয়েছে ৪৮১৭ দশমিক ০২ একর বনভূমি।
সম্পূরক প্রশ্ন করে শাম্মী আখতার বলেন, সরকারি তথ্য অনুযায়ী হবিগঞ্জে বনভূমির পরিমান ১১ হাজার ৪৪৪ হেক্টর। সরকারিভাবে ব্যবহার হচ্ছে কম-বেশি ৪৫৯০ হেক্টর। অবশিষ্ট বনভূমির বেশিরভাগই অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ জানতে চান তিনি।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২৩০০ একর বনভূমি উদ্ধার করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।
তিনি বলেন, “অবৈধ দখলে থাকা বনভূমি চিহ্নিত করতে জেলা প্রশাসনের কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে। ধারাবাহিকভাবে এসব জমি উদ্ধারের প্রক্রিয়া চলবে।”
সেন্ট মার্টিনে অবৈধভাবে রিসোর্ট নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ জানতে চান সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য বীথিকা বিনতে হোসাইন।
জবাবে শেখ ফরিদুল বলেন, তিনি ৮ আগস্ট সেন্ট মার্টিন পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় ও জেলা প্রশাসনের নজরে অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি আনা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আশা করি খুব অল্প সময়ের ভেতরে আমরা এটা বন্ধ করতে পারব।”
কুমিল্লা-১০ আসনের মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে। এর সঙ্গে তাপজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুও বাড়ছে।
তিনি বলেন, ‘গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২৬’ অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম।
Arif 



















