নেপালের রসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা ও হড়পা বানের প্রভাবে ভারতের বিহার রাজ্যে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুরো বিহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা বা ‘হাই অ্যালার্ট’ জারি করেছে রাজ্য প্রশাসন।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করে সরকারি কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি নদীগুলোতে নজরদারি বাড়ানো, বাঁধ ও বাঁধসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং রাতে নিয়মিত টহল বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গণ্ডক নদীর তীরবর্তী পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, মুজাফফরপুর, বৈশালী, গোপালগঞ্জ ও সারণ জেলায় বন্যার আশঙ্কায় বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজ্যের সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটিও বাতিল করা হয়েছে।
প্রশাসনের আশঙ্কা, নেপাল থেকে গণ্ডক নদী হয়ে আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রায় সাড়ে তিন লাখ কিউসেক পানি বিহারে প্রবেশ করতে পারে। পাহাড়ি ঢল নেমে আসায় নদীর পানি দ্রুত বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আগাম সতর্কতা হিসেবে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। বাল্মীকিনগরে গণ্ডক নদীর ব্যারেজের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিহার ও উত্তর প্রদেশের প্রকৌশলীরা ব্যারেজের পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন।
বন্যার আশঙ্কায় বাল্মীকিনগরের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকেও বন্যপ্রাণী নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
বিহার সরকার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নেপাল থেকে পানি গণ্ডক নদী হয়ে বিহারে প্রবেশ করতে শুরু করে। পানির প্রবল চাপ সামাল দিতে উত্তর বিহারের বাল্মীকিনগরে অবস্থিত গণ্ডক ব্যারেজের ৩৬টি গেট ধাপে ধাপে খুলে দেওয়া হয়েছে।
এদিকে তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক হিমধসের পর নেপালে ভয়াবহ জলউচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়েছে। উজান থেকে নেমে আসা অস্বাভাবিক পানির তোড়ে দেশটির একাধিক এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখন পর্যন্ত নেপালের তিনটি জেলায় অন্তত ১৬০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় নেপাল ও ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















