ঢাকা ০৩:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা তিন দিনের সফরে সৌদি আরব গেলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী অস্ত্র-সংকটের তথ্য জানতেন না ট্রাম্প, হেগসেথের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় বোনের বিয়ের বাজার শেষে নিথর দেহে ফিরলেন ভাই দুর্ঘটনায় আহতদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব হাসপাতালে সার্কুলারের নির্দেশ হাইকোর্টের আলভারেজকে পেতে ১১৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করতে প্রস্তুত বার্সেলোনা! চাঁদপুরে মামলা পরিচালনাকালে আইনজীবীর মৃত্যু হামলার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের, ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হলো কল রেকর্ড অনুশ্রীর স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী, উপহার দিলেন হারমোনিয়াম বাদ দিতে হলো ইমরান হাশমির নতুন সিনেমার ৪ মিনিটের দৃশ্য
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন, যেখানে দ্বিতীয় দফার ঢলে পুরো ফারুয়া বাজার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাইংখ্যং নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির উচ্চতা এতটাই বেড়েছে যে অনেক এলাকায় গ্রাম, বাজার ও বসতভিটা আলাদা করে চেনার উপায় নেই।

ফারুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি দোকান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জা। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বহু পরিবার ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জনগণের অধিকার আদায়ে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

রাইংখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি ত্রাণসামগ্রী সরাসরি দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় পানি কিছুটা কমলেও বরকল ও জুড়াছড়ির নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত চার দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ‘তিন কিলো’ এলাকায় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে শনিবার সকাল থেকে এ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  আধুনিকতার ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচংগ্যা জানান, শনিবার ভোরের ভারী বৃষ্টিতে ফারুয়া বাজারসহ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, শুকনো খাবার এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য স্থানীয়ভাবে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, রাইংখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে আপাতত নৌপথে ফারুয়ায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমলে বড় পরিসরে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় যাওয়া হবে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য স্থানীয়ভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার থেকেই ফারুয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে সরাসরি যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় বাজার থেকে চাল, ডাল ও তেল সংগ্রহ করে দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কিমের ‘১২০ ক্ষেপণাস্ত্র’ পুতিনের হাতে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের আশঙ্কা

রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার মধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচরের অধিকাংশ এলাকা নৌপথনির্ভর হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান জানিয়েছেন, দুর্গম ফারুয়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বরকল উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে ত্রাণ ও খাবার বিতরণ করেছেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ঘোষণা

পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেল রাঙ্গামাটির ফারুয়া বাজার, বিচ্ছিন্ন যোগাযোগে দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

আপডেটের সময়: ১১:৩৪:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধিতে রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন, যেখানে দ্বিতীয় দফার ঢলে পুরো ফারুয়া বাজার পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তীব্র স্রোতের কারণে দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছাতেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রাইংখ্যং নদীর পানি উপচে বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানির উচ্চতা এতটাই বেড়েছে যে অনেক এলাকায় গ্রাম, বাজার ও বসতভিটা আলাদা করে চেনার উপায় নেই।

ফারুয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫০টি দোকান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। প্লাবিত হয়েছে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মন্দির ও গির্জা। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় বহু পরিবার ফারুয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আশ্রয় নিয়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ১৬ আগস্ট চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, চার বছরে সুবিধার আওতায় ১ কোটি ৬০ লাখ পরিবার

রাইংখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে উপজেলা সদর থেকে ফারুয়া ইউনিয়নে নৌপথে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে সরকারি ত্রাণসামগ্রী সরাসরি দুর্গত এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে বাঘাইছড়ি ও লংগদু উপজেলায় পানি কিছুটা কমলেও বরকল ও জুড়াছড়ির নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত চার দিন ধরে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাঘাইহাট-মারিশ্যা সড়কের ‘তিন কিলো’ এলাকায় সড়কের একটি অংশ ধসে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের শিলক ব্রিজঘাট সেতুর একটি অংশ ধসে পড়েছে। ফলে শনিবার সকাল থেকে এ সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ   রাজধানীর চারপাশের নদীদূষণ রোধে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ফারুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিদ্যালাল তংচংগ্যা জানান, শনিবার ভোরের ভারী বৃষ্টিতে ফারুয়া বাজারসহ ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজারো মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি দ্রুত পর্যাপ্ত ত্রাণ, শুকনো খাবার এবং পানিবাহিত রোগ প্রতিরোধে মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানান। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য স্থানীয়ভাবে রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান।

বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, রাইংখ্যং নদীর তীব্র স্রোতের কারণে আপাতত নৌপথে ফারুয়ায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমলে বড় পরিসরে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় যাওয়া হবে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য স্থানীয়ভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার থেকেই ফারুয়ায় ত্রাণ পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে সরাসরি যাওয়া সম্ভব না হওয়ায় স্থানীয় বাজার থেকে চাল, ডাল ও তেল সংগ্রহ করে দুর্গতদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  জনগণের অধিকার আদায়ে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের ঘোষণা জামায়াত আমিরের

রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার মধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু, বরকল, জুড়াছড়ি, বিলাইছড়ি ও নানিয়ারচরের অধিকাংশ এলাকা নৌপথনির্ভর হওয়ায় পাহাড়ি ঢলে যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্কের বিভ্রাট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান জানিয়েছেন, দুর্গম ফারুয়া এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে খাদ্য সংগ্রহ করে দুর্গতদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তিনি বরকল উপজেলার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করে ত্রাণ ও খাবার বিতরণ করেছেন।