ঢাকা ০৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ফিরে দেখা জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার ওইদিন বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

এর আগে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম সামনে আসে। পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার পর তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

আরও পড়ুনঃ  ডকুমেন্টারির প্রতিবাদে হামলার অভিযোগ মাহিন সরকারের

বঙ্গভবনে শপথ

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ পড়ান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাও শপথ নেন।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন নিয়ে ডিআইইউ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের যৌথ সেমিনার

সরকারের সামনে ছিল নানা চ্যালেঞ্জ

দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতি সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয় সরকার।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার তদন্ত, নিহত ও আহতদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তও সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

একই সঙ্গে দুর্নীতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

সংস্কারের উদ্যোগ

নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার লক্ষ্য সামনে রেখে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ, জনপ্রশাসন ও সংবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ইতালির পর এবার নিজেদের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করল স্পেন

এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন এক পর্ব।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ফিরে দেখা জুলাই গণঅভ্যুত্থান: ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন

আপডেটের সময়: ১২:২৫:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট বাংলাদেশে গঠিত হয় অন্তর্বর্তী সরকার। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত এই সরকার ওইদিন বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

এর আগে ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন এবং নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম সামনে আসে। পরে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনার পর তার নেতৃত্বে সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।

আরও পড়ুনঃ  ডকুমেন্টারির প্রতিবাদে হামলার অভিযোগ মাহিন সরকারের

বঙ্গভবনে শপথ

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট রাতে বঙ্গভবনের দরবার হলে শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ পড়ান। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যান্য উপদেষ্টাও শপথ নেন।

এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই সমন্বয়কসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব

সরকারের সামনে ছিল নানা চ্যালেঞ্জ

দায়িত্ব গ্রহণের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, অর্থনীতি সচল রাখা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয় সরকার।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার তদন্ত, নিহত ও আহতদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তও সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে ওঠে।

একই সঙ্গে দুর্নীতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়।

সংস্কারের উদ্যোগ

নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করার লক্ষ্য সামনে রেখে পরবর্তী সময়ে নির্বাচনব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, পুলিশ, জনপ্রশাসন ও সংবিধানসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  নারীর নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন নিয়ে ডিআইইউ ও সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের যৌথ সেমিনার

এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঠামোগত পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য একটি নতুন ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এই সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় রাষ্ট্র পরিচালনায় নতুন এক পর্ব।