দুর্বল মার্কিন ডলারের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এসব তথ্য থেকে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দামও বাড়ছে, যা মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪১৪ ডলার ছাড়াল
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪১৪ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৫৪ মিনিটে এ দর পাওয়া যায়।
অন্যদিকে ডিসেম্বর সরবরাহের মার্কিন গোল্ড ফিউচারের দাম ০ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৫৮ দশমিক ৮০ ডলারে স্থির হয়েছে।
হাই রিজ ফিউচার্সের ধাতু বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক ডেভিড মেগার বলেন, স্বর্ণের বাজারের জন্য কিছুটা সহায়ক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ডলারের ওপর কিছুটা চাপ রয়েছে।
দুর্বল ডলারে স্বর্ণে বাড়ছে চাহিদা
ডলার দুই সপ্তাহের সর্বনিম্ন অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। ফলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে উঠেছে।
একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ওঠায় মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বেড়েছে।
স্টোনএক্সের বাজার বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান রোনা ও’কনেল বলেন, তেলের বাড়তি দাম মূল্যস্ফীতিতে চাপ তৈরি করছে। পরিবহন ব্যয় ও সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বন্ডের সুদহারও বাড়ছে। সামগ্রিক মুদ্রানীতিতে আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফেডের সুদের হার নিয়ে অপেক্ষায় বিনিয়োগকারীরা
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০২৩ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর কিছুটা কমেছে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচকের (পিপিআই) তথ্য এবং শুক্রবার ভোক্তা মূল্যস্ফীতির (সিপিআই) তথ্য প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে। এসব তথ্যের ওপর ভিত্তি করে আগামী সপ্তাহের বৈঠকে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে কি না, সে বিষয়ে ধারণা পেতে অপেক্ষা করছেন বিনিয়োগকারীরা।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহের বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা প্রায় ৬০ শতাংশ ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন হচ্ছে।
রুপা-প্লাটিনাম-প্যালাডিয়ামের দামও বেড়েছে
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যেও দাম বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ৯১ ডলারে উঠেছে।
প্লাটিনামের দাম বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ, প্রতি আউন্স ১ হাজার ৯০৬ দশমিক ২০ ডলারে। আর প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৬৫ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
তবে ওয়ার্ল্ড প্লাটিনাম ইনভেস্টমেন্ট কাউন্সিল জানিয়েছে, বিনিয়োগ ও গয়নার চাহিদা কমে যাওয়ায় চলতি বছর বৈশ্বিক প্লাটিনাম বাজার ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো উদ্বৃত্তের দিকে যেতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 




















