সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের ঘনিষ্ঠ ধর্মীয় নেতা ও সাবেক গ্র্যান্ড মুফতি আহমেদ বদরউদ্দিন হাসুনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময় সহিংসতায় উসকানি, হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
সোমবার দামেস্কের চতুর্থ অপরাধ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের বিচারক ফখরুদ্দিন আল-আরিয়ান জানান, আসাদ সরকারের সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানকে ধর্মীয় বৈধতা দিতে হাসুন ও তার নেতৃত্বাধীন সরকারি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সিরিয়ার গ্র্যান্ড মুফতির দায়িত্ব পালন করা হাসুন সরকারি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে ধর্মীয় বক্তব্য দিয়েছেন। বিশেষ করে বেসামরিক এলাকায় ব্যারেল বোমা হামলার প্রতি তার সমর্থনের বিষয়টি আদালতের রায়ে গুরুত্ব পেয়েছে। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টিকারী এই ধরনের বোমার ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত।
আদালতে যেসব অভিযোগ প্রমাণিত
বিচারক বলেন, হাসুন তার বিভিন্ন ধর্মীয় বক্তৃতায় সিরিয়ার সামরিক কর্মকর্তা ও সেনাদের বিরোধীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সরকারি সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে পূর্ব আলেপ্পোর বেসামরিক বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন তিনি।
এ ছাড়া যেসব এলাকা থেকে বোমা হামলা চালানো হয়েছিল, সেসব এলাকা ধ্বংস ও নির্মূল করার জন্য সেনাবাহিনীকে উৎসাহিত করার এবং ইদলিবের বাসিন্দাদের হত্যা ও বাস্তুচ্যুত করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়।
হত্যাকাণ্ডে উসকানির অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হত্যাকাণ্ড দীর্ঘায়িত করার দায়ে আরও ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে। একাধিক অভিযোগে দেওয়া সাজাগুলো আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপ নেয়। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার ও বিচার
২০২৫ সালের মার্চে দামেস্ক বিমানবন্দর থেকে হাসুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রায় এক মাস আগে তিনি দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর প্রকাশ্যে এসেছিলেন। গত ২৫ জুন তার বিচার শুরু হয়।
আদালত জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় হাসুন কোনো সাধারণ বা বিশেষ ক্ষমার আওতায় আসবেন না। পাশাপাশি সরকারি কোষাগার থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের কারণে তার অর্থ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায়কে স্বাগত সরকারের
রায়ের পর সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি বলেন, জনগণের অধিকার রক্ষা করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি এই বিচারকে দেশটির পরিবর্তনকালীন বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতনের পর সাবেক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে একাধিক বিচার শুরু হয়েছে। তবে হাসুনের মামলাটি বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে তাকে এই বিচারপ্রক্রিয়ায় সাজাপ্রাপ্ত প্রথম সুন্নি মুসলিম ধর্মীয় নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসুনের কিছু সমর্থক অবশ্য দাবি করছেন, তার বক্তব্য অনলাইনে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। অন্যদিকে সমালোচকদের অনেকে তার জন্য আরও কঠোর শাস্তির দাবি করেছিলেন।
সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি
প্রতিবেদকের নাম 




















