মানবপাচার ও অবৈধ অনুপ্রবেশের শিকার হয়ে ভারতে বন্দিদশা কাটানোর পর বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন ১৮ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে এক বছর আগে মাত্র ১৩ বছর বয়সে ভারতে পাড়ি জমানো এক কিশোরীও রয়েছে। এক বছর বয়সী সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে দেশে ফিরেছে সে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ জানায়, ফেরত আসা ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জন শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক। স্থলবন্দরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে মানবিক সহায়তা ও পারিবারিক পুনর্বাসনের জন্য তাদের বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা ‘জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ার’-এর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এক বছর বয়সী সন্তানসহ ফিরে আসা কিশোরীর জীবনকাহিনি বেদনাদায়ক। খুলনার বাসিন্দা ওই কিশোরী ১৩ বছর বয়সে প্রেমের সম্পর্কের জেরে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে দালালের মাধ্যমে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নেয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুদিন পর একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেয় সে।
এরপর অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। প্রায় এক বছর কারাভোগের পর স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থার সহায়তায় সন্তানসহ তাকে কলকাতার একটি আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়। পরে দুই দেশের কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে দেশে ফেরার সুযোগ পায় কিশোরীটি।
ফেরত আসা শিশুদের পারিবারিক জটিলতার বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ফেরত আসা শিশুদের অনেকের মা-বাবা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন কারাগারে আটক রয়েছেন। আবার কারও মা-বাবা ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরলেও সন্তানেরা কলকাতার বিভিন্ন শেল্টার হোমে আটকা ছিল। সমন্বিত কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানো সম্ভব হয়েছে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের ডেপুটি কান্ট্রি ম্যানেজার এ বি এম মুহিত হোসেন জানান, ফেরত আসা নারী ও শিশুদের সংস্থাটির বেনাপোলের নিজস্ব আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক সেবা ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 

























