ঢাকা ০৮:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সুনামগঞ্জে বৃদ্ধকে কুপিয়ে আহত, ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ রাষ্ট্র পুনর্গঠনে আলেমদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান চরমোনাই পীরের সন্ধ্যার মধ্যে ৪ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত হোটেল নুরজাহান থেকে ধানখেত, তাজমীনের মৃত্যুর আগে সিসিটিভি ফুটেজ ঘিরে রহস্য শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও এআই সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে: অর্থমন্ত্রী সৌরভের বায়োপিকের বিতর্কিত পোস্টার নিয়ে মুখ খুললেন রাজকুমার রাও ধর্ষণ-নির্যাতনসহ একাধিক অভিযোগ, মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পীরগঞ্জের ওসির বিরুদ্ধে ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়া ১০১ অভিবাসীকে উদ্ধার, দলে ৫ অন্তঃসত্ত্বা নারী কিশোরগঞ্জে ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিক নিহত, আহত আরও দুই বিদেশে চাকরির প্রলোভনে প্রতারণা, রাজধানীতে ১২ জন গ্রেপ্তার
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়া ১০১ অভিবাসীকে উদ্ধার, দলে ৫ অন্তঃসত্ত্বা নারী

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ সময় দেখুন

 

ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়া ১০১ অভিবাসীকে দুটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার করেছে বেসরকারি মানবিক সহায়তা সংস্থা এসওএস মেদিতেরানের উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন শিশু, ৫ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ১৬ জন অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। উদ্ধার করা অনেকের শরীরে জ্বালানির কারণে পোড়ার ক্ষত পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত থেকে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগরে দুটি পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, প্রথম অভিযানটি লিবিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার এলাকায় পরিচালিত হয়। সক্রিয় অভিবাসনবিষয়ক এনজিও অ্যালার্ম ফোনের সতর্কবার্তার পর অভিযান শুরু হয়। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান থেকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন ৬০ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ, ২১ জন নারী ও ১২ জন শিশু। পাঁচ নারী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। শিশুদের মধ্যে চারজনের বয়স ১ থেকে ৪ বছরের মধ্যে। উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিবাসী দুই দিন ধরে সমুদ্রে ছিলেন। তাদের কাছে কোনো খাবার বা পানীয় জল ছিল না।

আরও পড়ুনঃ  ইমরান খানের মুক্তি ছাড়া লংমার্চ থামবে না, জানাল পিটিআই

জ্বালানির কারণে শরীরে পোড়ার ক্ষত

এসওএস মেদিতেরান জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেকের শরীরে জ্বালানির কারণে পোড়ার ক্ষত রয়েছে। সমুদ্রের পানির সঙ্গে পেট্রল মিশে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটলে এ ধরনের গুরুতর ক্ষত তৈরি হতে পারে। সাধারণত নৌকার মেঝেতে, জ্বালানির কাছাকাছি অবস্থান করা ব্যক্তিরা এ ধরনের আঘাতের ঝুঁকিতে থাকেন।

উদ্ধার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের একজনকে চিকিৎসার প্রয়োজনে ইতালির কোস্টগার্ডের একটি টহল নৌযানে করে ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁর স্বামীও সঙ্গে ছিলেন।

দ্বিতীয় অভিযানটি বুধবার ভোরে মাল্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধার এলাকায় পরিচালিত হয়। অ্যালার্ম ফোনের সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল, আংশিকভাবে বাতাস বের হয়ে যাওয়া একটি নৌকা বিপদে পড়েছে। ওই নৌকায় ছিলেন ৪১ জন—১৮ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং ১৬ জন অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তারাও দুই দিন ধরে সমুদ্রে ছিলেন এবং তাদের কাছেও খাবার ও পানীয় জল ছিল না।

আরও পড়ুনঃ  পদার্থবিজ্ঞানে ২০২৬ সালের নোবেল পেলেন ফ্রান্সিস হ্যালজেন

নেপলস বন্দরে নেওয়ার নির্দেশ

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের তীরে নামিয়ে দিতে ওশান ভাইকিংকে ইতালির নেপলস বন্দরের দিকে যেতে হবে। এসওএস মেদিতেরানের মতে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নির্ধারিত বন্দরে যেতে হওয়ায় উদ্ধার করা ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এই পরিস্থিতির পেছনে ইতালির ২০২২ সালে চালু হওয়া পিয়ান্তেদোসি ডিক্রির প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন মানবিক সহায়তাকারীরা। ওই ব্যবস্থার আওতায় উদ্ধারকারী জাহাজকে একটি অভিযান শেষ করার পর সরকার নির্ধারিত বন্দরে যেতে হয়। বিশেষ অনুমতি না পেলে পথে অন্য কোনো বিপদগ্রস্ত নৌকা দেখতে পেলেও নতুন করে উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  দিল্লিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ বিক্ষোভ ঘিরে সতর্কতা, বন্ধ হতে পারে ৫৭ মেট্রো স্টেশন

মানবিক সহায়তাকারীদের অভিযোগ, এর ফলে উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার এলাকা থেকে দূরের বন্দরে যেতে হচ্ছে। এতে সমুদ্রে যাত্রার সময় বাড়ছে এবং জাহাজগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য মধ্য ভূমধ্যসাগরের উদ্ধার এলাকা থেকে দূরে থাকছে।

মধ্য ভূমধ্যসাগর ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান অভিবাসনপথ। প্রতিবছর লিবিয়া, তিউনিসিয়া ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে হাজারো মানুষ ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এসব নৌকার অনেকগুলো সমুদ্রযাত্রার উপযোগী নয় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৬৪৭ জন অভিবাসী মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫ জন।

 

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সুনামগঞ্জে বৃদ্ধকে কুপিয়ে আহত, ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়া ১০১ অভিবাসীকে উদ্ধার, দলে ৫ অন্তঃসত্ত্বা নারী

আপডেটের সময়: ০৪:৫৯:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

 

ভূমধ্যসাগরে বিপদে পড়া ১০১ অভিবাসীকে দুটি পৃথক অভিযানে উদ্ধার করেছে বেসরকারি মানবিক সহায়তা সংস্থা এসওএস মেদিতেরানের উদ্ধারকারী জাহাজ ওশান ভাইকিং। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজন শিশু, ৫ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং ১৬ জন অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক রয়েছে। উদ্ধার করা অনেকের শরীরে জ্বালানির কারণে পোড়ার ক্ষত পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত থেকে বুধবার (৭ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত মধ্য ভূমধ্যসাগরে দুটি পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়।

সংস্থাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, প্রথম অভিযানটি লিবিয়ার অনুসন্ধান ও উদ্ধার এলাকায় পরিচালিত হয়। সক্রিয় অভিবাসনবিষয়ক এনজিও অ্যালার্ম ফোনের সতর্কবার্তার পর অভিযান শুরু হয়। এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্তরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান থেকেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

প্রথম নৌকাটিতে ছিলেন ৬০ জন। তাদের মধ্যে ২৭ জন পুরুষ, ২১ জন নারী ও ১২ জন শিশু। পাঁচ নারী ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। শিশুদের মধ্যে চারজনের বয়স ১ থেকে ৪ বছরের মধ্যে। উদ্ধারকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিবাসী দুই দিন ধরে সমুদ্রে ছিলেন। তাদের কাছে কোনো খাবার বা পানীয় জল ছিল না।

আরও পড়ুনঃ  সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে ফের বিক্ষোভ, বিরোধীদের কর্মসূচিতে মমতা

জ্বালানির কারণে শরীরে পোড়ার ক্ষত

এসওএস মেদিতেরান জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অনেকের শরীরে জ্বালানির কারণে পোড়ার ক্ষত রয়েছে। সমুদ্রের পানির সঙ্গে পেট্রল মিশে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটলে এ ধরনের গুরুতর ক্ষত তৈরি হতে পারে। সাধারণত নৌকার মেঝেতে, জ্বালানির কাছাকাছি অবস্থান করা ব্যক্তিরা এ ধরনের আঘাতের ঝুঁকিতে থাকেন।

উদ্ধার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা নারীদের একজনকে চিকিৎসার প্রয়োজনে ইতালির কোস্টগার্ডের একটি টহল নৌযানে করে ল্যাম্পেদুসা দ্বীপে নেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁর স্বামীও সঙ্গে ছিলেন।

দ্বিতীয় অভিযানটি বুধবার ভোরে মাল্টার অনুসন্ধান ও উদ্ধার এলাকায় পরিচালিত হয়। অ্যালার্ম ফোনের সতর্কবার্তায় জানানো হয়েছিল, আংশিকভাবে বাতাস বের হয়ে যাওয়া একটি নৌকা বিপদে পড়েছে। ওই নৌকায় ছিলেন ৪১ জন—১৮ জন পুরুষ, ৭ জন নারী এবং ১৬ জন অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক। তারাও দুই দিন ধরে সমুদ্রে ছিলেন এবং তাদের কাছেও খাবার ও পানীয় জল ছিল না।

আরও পড়ুনঃ  হুথিদের দখলমুক্ত করতে ইয়েমেন সরকারের বড় সামরিক অভিযানের ঘোষণা

নেপলস বন্দরে নেওয়ার নির্দেশ

উদ্ধার হওয়া অভিবাসীদের তীরে নামিয়ে দিতে ওশান ভাইকিংকে ইতালির নেপলস বন্দরের দিকে যেতে হবে। এসওএস মেদিতেরানের মতে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে নির্ধারিত বন্দরে যেতে হওয়ায় উদ্ধার করা ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।

এই পরিস্থিতির পেছনে ইতালির ২০২২ সালে চালু হওয়া পিয়ান্তেদোসি ডিক্রির প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন মানবিক সহায়তাকারীরা। ওই ব্যবস্থার আওতায় উদ্ধারকারী জাহাজকে একটি অভিযান শেষ করার পর সরকার নির্ধারিত বন্দরে যেতে হয়। বিশেষ অনুমতি না পেলে পথে অন্য কোনো বিপদগ্রস্ত নৌকা দেখতে পেলেও নতুন করে উদ্ধার অভিযান চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ছাড়া ভোটে অংশ নেওয়া অর্থহীন: অভিজিৎ দীপকে

মানবিক সহায়তাকারীদের অভিযোগ, এর ফলে উদ্ধারকারী জাহাজগুলোকে অনুসন্ধান ও উদ্ধার এলাকা থেকে দূরের বন্দরে যেতে হচ্ছে। এতে সমুদ্রে যাত্রার সময় বাড়ছে এবং জাহাজগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য মধ্য ভূমধ্যসাগরের উদ্ধার এলাকা থেকে দূরে থাকছে।

মধ্য ভূমধ্যসাগর ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান অভিবাসনপথ। প্রতিবছর লিবিয়া, তিউনিসিয়া ও উত্তর আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে হাজারো মানুষ ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করেন। এসব নৌকার অনেকগুলো সমুদ্রযাত্রার উপযোগী নয় এবং অতিরিক্ত যাত্রী বহন করে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরে ১ হাজার ৬৪৭ জন অভিবাসী মারা গেছেন অথবা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৫ জন।