হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীবিহীন একটি উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ২০ কোটি টাকা মূল্যের সোনা উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউস। উড়োজাহাজটির একটি আসনের নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৮০টি সোনার বার পাওয়া যায়।
উদ্ধার করা সোনার বারগুলোর মোট ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৩০ গ্রাম। কাস্টমসের প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ কোটি টাকা।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে অভিযান চালান কাস্টমস কর্মকর্তারা। এ সময় ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড-৫২৩ ফ্লাইটের উড়োজাহাজে তল্লাশি শুরু করা হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে একটি আসনের নিচে কালো স্কচটেপ দিয়ে বিশেষভাবে মোড়ানো একটি প্যাকেটের সন্ধান পান কর্মকর্তারা। প্যাকেটটি খুললে ভেতর থেকে ৮০টি সোনার বার বেরিয়ে আসে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা সোনার বারগুলোর সম্মিলিত ওজন প্রায় ৯ কেজি ৩৩০ গ্রাম। প্রাথমিকভাবে এসব সোনার বাজারমূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার
ঢাকা কাস্টমস হাউস জানিয়েছে, সোনার বারগুলো মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। উড়োজাহাজের আসনের নিচে অত্যন্ত কৌশলে সেগুলো লুকিয়ে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কাস্টমসের ধারণা, চালানটি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শুল্কব্যবস্থা এড়িয়ে বাইরে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়ে থাকতে পারে।
মামলা, চলছে তদন্ত
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, উদ্ধার করা সোনার বারগুলো অধিক মূল্যবান হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দর কাস্টমসের মূল্যবান গুদামে সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রচলিত স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী মূল্যবান ধাতু হিসেবে এসব সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ঢাকা কাস্টমস হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, সোনার চালানটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সোনার চালানটির উৎস, এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সম্ভাব্য চোরাচালান নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 


















