রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি চার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে। এ ছাড়া আরও চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অন্য তিন শিক্ষার্থীকে সতর্ক করার সুপারিশও করেছে কমিটি।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম তাঁর সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো তুলে ধরেন।
যাদের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ
অভিযোগের ধরন ও ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় যেসব শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব সাময়িক বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, তাঁরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, ছাত্রদলকর্মী বিশাল চক্রবর্তী এবং শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলাম।
আরও চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তদন্তের সুপারিশ
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও চার শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধান শেষে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাঁরা হলেন—রাকসুর সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন এবং ছাত্রদলকর্মী সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম ও তানিম রহমান।
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, শরীফুল ইসলাম এবং সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার সুপারিশ করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া হলের সামনে ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।
ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। উপাচার্য সে সময় ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়সীমা শেষে বৃহস্পতিবার রাতে তদন্তের সময় শেষ হয় এবং শুক্রবার সকালে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংবাদ বয়কট অব্যাহত
তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কর্তৃপক্ষ মামলা না করা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংবাদ বয়কট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করায় উপাচার্যকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা।
তদন্ত কমিটির সুপারিশের পর এখন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কী ধরনের চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদকের নাম 


























