ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
৬,৮৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান না করার নির্দেশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সরানো নিয়ে সংসদে প্রশ্ন, ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা কি চাপে?’ নারী উদ্যোক্তাকে পুলিশের সামনে মারধর: তদন্ত কমিটির বাজার পরিদর্শন ‘চির বিদায় পৃথিবী’ পোস্টের ১৯ ঘণ্টা পর সড়ক দুর্ঘটনায় তরুণের মৃত্যু সৌদি আরবে মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক থাকার নির্দেশ অপতথ্য ঠেকাতে স্বয়ংক্রিয় ফ্যাক্টচেকিং প্রকল্প নেওয়া হয়েছে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী বিএনপির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে তথ্যনির্ভর গবেষণার আহ্বান জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভিসির মামুনুর রশীদ ও প্রিসিলা ডি কস্তার সুইমিংপুলে বৃষ্টিতে ডুবল রা মে ক হাসপাতালের সামনের সড়ক, দুর্ভোগে রোগী-স্বজন হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, এক দিনে আক্রান্ত ১,০৯৭
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

সতর্কবার্তার পর ৫ মিনিটও সময় মেলেনি, নেপালে মৃত্যু ৮০০ ছাড়িয়েছে

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:২৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দুর্যোগ আঘাত হানার আগে স্থানীয় বাসিন্দারা পাঁচ মিনিটেরও সতর্কবার্তা পাননি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় দুর্যোগের আগে আরও কার্যকর আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব ছিল কি না।

নেপালের কর্মকর্তাদের দাবি, হিমবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে চীন ও নেপালের মধ্যে সীমান্তপারের দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না খেলা নিয়ে তামিমের রহস্যময় মন্তব্য

নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের জলসম্পদবিদ সৌহার্দ্র যোশি বলেন, ওই এলাকায় হিমবাহের অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা পরিবর্তন শুরু হলে যেন আগেই জানা যায়, সেটিই তারা চীনের কাছে চেয়েছিলেন।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, দুর্যোগের আগে মানুষ পাঁচ মিনিটেরও সতর্কবার্তা পায়নি। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পর্যাপ্ত আবহাওয়া স্টেশন না থাকা এবং সীমান্তপারের তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকাকে তিনি এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

এর আগে গত মে মাসে বন্যা, আবহাওয়া ও হিমবাহ-সম্পর্কিত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে নেপাল ও চীনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকের পরও প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পাওয়া যায়নি বলে নেপালি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, মে মাসের বৈঠকের পর সীমান্তপারের তথ্য বিনিময় জোরদারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চীন হিমবাহ ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেপালের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত নেপালের একটি উপত্যকার ওপর দিয়ে নেমে আসে। এতে পথের বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুনঃ  আওয়ামী জামানায় জামায়াত কখনো সংসদ ভবনের আশপাশে গেছে?

দুর্যোগের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে তিব্বত মালভূমিজুড়ে হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদগুলোর জরিপ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে আগাম ঝুঁকি শনাক্ত ও সতর্কবার্তা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় এবং অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

৬,৮৮৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান না করার নির্দেশ

সতর্কবার্তার পর ৫ মিনিটও সময় মেলেনি, নেপালে মৃত্যু ৮০০ ছাড়িয়েছে

আপডেটের সময়: ০৯:২৯:২৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে সৃষ্ট এই বন্যায় নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে এখন পর্যন্ত অন্তত ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ। দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, দুর্যোগ আঘাত হানার আগে স্থানীয় বাসিন্দারা পাঁচ মিনিটেরও সতর্কবার্তা পাননি। এতে প্রশ্ন উঠেছে, এত বড় দুর্যোগের আগে আরও কার্যকর আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব ছিল কি না।

নেপালের কর্মকর্তাদের দাবি, হিমবাহ ও আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে চীন ও নেপালের মধ্যে সীমান্তপারের দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের সীমাবদ্ধতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  খাদ্যগুদামে অনিয়ম ঠেকাতে কঠোর সরকার, ভাঙা হবে সিন্ডিকেট: খাদ্যমন্ত্রী

নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের জলসম্পদবিদ সৌহার্দ্র যোশি বলেন, ওই এলাকায় হিমবাহের অস্বাভাবিক নড়াচড়া বা পরিবর্তন শুরু হলে যেন আগেই জানা যায়, সেটিই তারা চীনের কাছে চেয়েছিলেন।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধরম রাজ উপ্রেতি বলেন, দুর্যোগের আগে মানুষ পাঁচ মিনিটেরও সতর্কবার্তা পায়নি। উচ্চ পার্বত্য এলাকায় পর্যাপ্ত আবহাওয়া স্টেশন না থাকা এবং সীমান্তপারের তথ্য আদান-প্রদানের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকাকে তিনি এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুনঃ  চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

এর আগে গত মে মাসে বন্যা, আবহাওয়া ও হিমবাহ-সম্পর্কিত ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়াতে নেপাল ও চীনের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছিল। তবে ওই বৈঠকের পরও প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো পাওয়া যায়নি বলে নেপালি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।

তবে চীন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নেপালে অবস্থিত চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, দুর্যোগসংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, মে মাসের বৈঠকের পর সীমান্তপারের তথ্য বিনিময় জোরদারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিদ্যমান প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও চীন হিমবাহ ও সংশ্লিষ্ট ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ, মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণের চেষ্টা করেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেপালের সঙ্গে ভাগাভাগি করেছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমবাহ ধসে বরফ, কাদা, পাথর ও পানির বিশাল স্রোত নেপালের একটি উপত্যকার ওপর দিয়ে নেমে আসে। এতে পথের বসতি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আরও পড়ুনঃ  বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কে নতুন অধ্যায়, শিগগিরই শুরু হচ্ছে দুই সংলাপ

দুর্যোগের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে তিব্বত মালভূমিজুড়ে হিমবাহ ও হিমবাহ-হ্রদগুলোর জরিপ দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। একই সঙ্গে আগাম ঝুঁকি শনাক্ত ও সতর্কবার্তা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পর্যবেক্ষণব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে দুর্গম ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ থাকায় এবং অনেক এলাকায় পৌঁছানো কঠিন হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।