ইয়েমেনে সৌদি আরবের ধারাবাহিক বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে দেশটির একাধিক সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা।
সোমবারের এ হামলায় সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। তবে হুথিদের এসব দাবির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবি
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের খামিস মুশায়েতের কিং খালিদ বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
তার দাবি, বিমানঘাঁটির যুদ্ধবিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে, গোলাবারুদ সংরক্ষণকেন্দ্রসহ বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা ও অবকাঠামো হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল। এসব হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিস্ফোরণের শব্দ, আতঙ্কে স্থানীয়রা
হামলার পর সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ খামিস মুশায়েত ও আভা এলাকায় স্বল্প সময়ের জন্য সতর্কতা জারি করে। এর আগে রাতেও খামিস মুশায়েত ও ইয়েমেন সীমান্তবর্তী কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
খামিস মুশায়েতের এক বাসিন্দা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, তিনি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখেছেন।
আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে ওই বাসিন্দা বলেন, “সত্যি বলতে, আমরা রাতে একেবারেই ঘুমাতে পারিনি।”
পাঁচ দিনে ৩০০ বিমান হামলার দাবি
ইয়াহিয়া সারির দাবি, গত পাঁচ দিনে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় ৩০০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা খামিস মুশায়েত ও তায়েফের বিমানঘাঁটি থেকে পরিচালনা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে গত মঙ্গলবারের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে কয়েক ডজন মানুষ আহত হওয়ার তথ্য জানিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।
এর কয়েক দিন পর রোববার দক্ষিণ সৌদি আরবের শারুরা ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবিও করে হুথিরা।
লোহিত সাগর উপকূলে সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা
ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ বিস্তারের পর সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাত নতুন করে তীব্র হয়েছে। সপ্তাহব্যাপী অভিযানের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় নিয়ন্ত্রণ জোরদার করে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পরই পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত জুলাইয়ে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ ফের তীব্র হওয়ার পর সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের সংঘাতও বাড়তে থাকে। ওই সময় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হামলার হুমকি ও কার্যক্রম শুরু করে গোষ্ঠীটি।
হরমুজ সংকটে বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য বাব আল-মান্দেব ও লোহিত সাগরপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ফলে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনা শুধু ইয়েমেন ও সৌদি আরবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: এএফপি
প্রতিবেদকের নাম 




















