বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তরুণীদের আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার জন্য দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে টিফা’স ট্রেনিং একাডেমি। আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী করাই একাডেমিটির মূল লক্ষ্য।
একাডেমি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য শুধু পরিচিত মুখদের নিয়ে কাজ করা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা নতুন ও সম্ভাবনাময় প্রতিভাদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের গ্রুমিং, নেতৃত্বগুণ এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।
মিস বাংলাদেশ ইউএসএ অরগানাইজেশন-এর সহযোগিতায় পরিচালিত হবে টিফা’স ট্রেনিং একাডেমি। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেজেন্ট সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বিশ্বমানের প্রস্তুতি বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতিযোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি টিফা মিস বাংলাদেশ ইউএসএ অরগানাইজেশন-এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক পেজেন্ট অঙ্গনে তার অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রতিযোগীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন ভূমিকায় তিনি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগীদের বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করতে কাজ করবেন।
টিফা এর আগে মিস গ্র্যান্ড বাংলাদেশ ২০২২ এবং মিস সুপ্রান্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৪ হিসেবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি জানান, জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতির সময় খুবই সীমিত থাকে। অল্প সময়ের মধ্যে ফটোশুট, ভিডিও কনটেন্ট, ওয়ারড্রোব পরিকল্পনা, ক্যাটওয়াক, স্টেজ প্রেজেন্স, পাবলিক স্পিকিং, ইন্টারভিউ, ফিটনেস ও মানসিক প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হয়।
এই অভিজ্ঞতা থেকেই টিফা’স ট্রেনিং একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একাডেমিটির লক্ষ্য, আন্তর্জাতিক সুযোগ আসার অনেক আগেই প্রতিযোগীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে মিস ওয়ার্ল্ড, মিস ইউনিভার্স, মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল, মিস সুপ্রান্যাশনালসহ বিশ্বের যেকোনো মর্যাদাপূর্ণ পেজেন্টে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক মানের পেজেন্ট গ্রুমিং, পেশাদার ক্যাটওয়াক, স্টেজ প্রেজেন্স, পাবলিক স্পিকিং, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, ব্যক্তিত্ব বিকাশ, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং, অ্যাডভোকেসি ডেভেলপমেন্ট, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ থাকবে।
এই উদ্যোগের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়েছেন মিস বাংলাদেশ ইউএসএ অরগানাইজেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিয়াম আমানি হাফিজুদ্দিন। আন্তর্জাতিক পেজেন্ট অঙ্গনে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার অবদানের জন্য তিনি অনেকের কাছে ‘কুইন মেকার’ হিসেবে পরিচিত।
একাডেমি সম্পর্কে টিফা বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির সময় তিনি উপলব্ধি করেছেন, সীমিত সময়ে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত করা অত্যন্ত কঠিন। তাই ভবিষ্যতের প্রতিযোগীরা যেন আগেভাগেই সঠিক প্রশিক্ষণ, আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক মানের দিকনির্দেশনা পান, সেই লক্ষ্যেই এই একাডেমির যাত্রা। তার বিশ্বাস, সঠিক প্রস্তুতি একজন প্রতিযোগীকে শুধু একটি মুকুট জয়ের জন্য নয়, বরং একজন আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও প্রভাবশালী নারী হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















