কারাগারে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু করেছেন তার লাখো সমর্থক। ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চলমান উত্তেজনার মধ্যেই সোমবার দলটির পক্ষ থেকে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়েছে।
রোববার দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া থেকে ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চ শুরু হয়। বর্তমানে প্রদেশটিতে পিটিআই সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। দলটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে একাধিক স্থানে যাত্রাবিরতির পর লং মার্চটি ইসলামাবাদে পৌঁছাবে।
লং মার্চের নেতৃত্বে থাকা খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি সমর্থকদের রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তরুণদের কারাবন্দি নেতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের মাধ্যমে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই পিটিআই ও বর্তমান ক্ষমতাসীনদের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিরোধ চলছে। ইমরান খান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন, তার সরকার পতনের পেছনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ছিল। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
২০২৩ সালের মে মাসে ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সমর্থকদের একাংশ সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে। এরপর দেশজুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। পিটিআইয়ের বহু নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে অনেক সমর্থককে সামরিক আদালতে সাজা দেওয়া হয়।
৭৪ বছর বয়সী সাবেক ক্রিকেট তারকা ইমরান খান নিজেকে ‘রাজনৈতিক বন্দি’ হিসেবে দাবি করে আসছেন। গ্রেপ্তারের আগেই সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে তার সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে। পাকিস্তানের রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা থাকলেও বর্তমান বেসামরিক সরকার ও সেনাবাহিনী ইমরান খানকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, ইমরানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো বিচার বিভাগের স্বাধীন প্রক্রিয়ার অংশ।
বিভিন্ন মামলায় বিচারিক আদালতে সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন ইমরান খান। তবে আপিল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় একটি মামলা ছাড়া তার অন্য বেশিরভাগ সাজা স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর লং মার্চ আয়োজনের কথা থাকলেও পিটিআইয়ের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সরকার আলোচনার প্রস্তাব দেওয়ায় কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়। তবে গত সপ্তাহের শেষ দিকে সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হয়। এরপরই নতুন করে লং মার্চের কর্মসূচি শুরু করেছে দলটি।
এর আগে প্রায় দুই বছর আগে পিটিআইয়ের বড় একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল।
এবার সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ইসলামাবাদ ও আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন এবং বিভিন্ন দেশের দূতাবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় শিপিং কনটেইনার বসিয়ে সড়ক অবরুদ্ধ ও ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের যেকোনো মূল্যে ইসলামাবাদে প্রবেশ ঠেকানোর ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিজেদের ইচ্ছামতো রাজধানীর স্বাভাবিক কার্যক্রম ও ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, চলমান সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে।
সরকারের সঙ্গে পিটিআইয়ের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার কারণ নিয়েও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। সরকারের দাবি, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে বাড়তে থাকা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় প্রস্তাবিত যৌথ নীতিতে পিটিআই সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানানোয় আলোচনা ভেস্তে গেছে।
তবে পিটিআই সরকারের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলটির অভিযোগ, আলোচনার নামে অন্যায্য শর্ত চাপিয়ে দিয়ে পিটিআইকে নতিস্বীকারে বাধ্য করার চেষ্টা করেছে সরকার।
এদিকে সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়ায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জঙ্গি ও সশস্ত্র হামলার ঘটনা বেড়েছে। এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিসহ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইমরান খানের দল পরিচালিত প্রাদেশিক সরকার যদি রাষ্ট্র-সমর্থিত সন্ত্রাসবিরোধী যৌথ নীতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়, তাহলে সাংবিধানিক ও আইনি ব্যবস্থা নিয়ে ওই সরকার ভেঙে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে শুরু হওয়া এই লং মার্চকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইসলামাবাদে বিক্ষোভকারীদের প্রবেশ ঠেকাতে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে সা
প্রতিবেদকের নাম 
























