
কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পশু কেনার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এ সময় পশু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ইসলামী শরীয়তের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত রয়েছে, যা মানা কোরবানিকে শুদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
১. শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া
কোরবানির পশু অবশ্যই সুস্থ ও শারীরিকভাবে ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। অন্ধ, খোঁড়া, খুব বেশি অসুস্থ বা মারাত্মক শারীরিক সমস্যা আছে—এমন পশু দিয়ে কোরবানি করা যায় না। উত্তম হলো এমন পশু নির্বাচন করা যা দেখতে সুন্দর ও হৃষ্টপুষ্ট।
২. নির্ধারিত বয়স পূর্ণ হওয়া
প্রত্যেক পশুর জন্য নির্দিষ্ট বয়স নির্ধারিত রয়েছে। যেমন—
- উট: কমপক্ষে ৫ বছর
- গরু ও মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর
- ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর
তবে ভেড়া বা দুম্বা যদি দেখতে এক বছরের মতো হয় এবং বয়সের অর্ধেকের বেশি সময় পূর্ণ করে, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
৩. ভালো ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়া
ইসলামে কোরবানির পশু নির্বাচনে সৌন্দর্য ও শক্তিশালী হওয়াকে উৎসাহিত করা হয়েছে। ভালো স্বাস্থ্য ও শক্তিশালী গঠনবিশিষ্ট পশু কোরবানির জন্য উত্তম বলে বিবেচিত হয়।
৪. হাদিসে বর্ণিত মানদণ্ড অনুসরণ
রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে শিংযুক্ত, মোটাতাজা ও সুন্দর একটি মেষ কোরবানি করেছেন। এর মাধ্যমে উত্তম ও ভালো পশু নির্বাচনের দিকনির্দেশনা পাওয়া যায়।
৫. আল্লাহর সন্তুষ্টির নিয়তে নির্বাচন
কোরবানি কেবল একটি পশু জবাই নয়; বরং এটি একটি ইবাদত। তাই পশু নির্বাচন করতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়তে, বাহ্যিক প্রদর্শন বা প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্যে নয়।
কোরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হওয়ায় পশু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক শর্ত মেনে পশু নির্বাচন করলে কোরবানি হবে আরও গ্রহণযোগ্য ও অর্থবহ।
প্রতিবেদকের নাম 


























