গুমের শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে জামায়াত আমির বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ স্বজনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করার পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতিও সমবেদনা জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমানের অভিযোগ, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের অনেকের কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরিবারগুলো এখনো উদ্বেগ ও মানবিক সংকটের মধ্যে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিবৃতিতে তিনি ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তার অভিযোগ, ভিন্নমত দমনের উদ্দেশ্যে এসব স্থানে মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো স্বাধীন দেশে নাগরিকদের গুম করে রাখা তাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং এ বিষয়ে নেওয়া নতুন আইনি উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জামায়াত আমির। তার মতে, গুমের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্ত কোনো পক্ষের প্রভাবমুক্ত রাখতে হলে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তব্যবস্থা প্রয়োজন।
এ ছাড়া গুমসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারের ওপর রাখার বিষয়েও আপত্তি জানান তিনি। ডা. শফিকুর রহমানের দাবি, গুমের কিছু ঘটনায় তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তদন্ত ও তথ্য ব্যবস্থাপনায় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ভূমিকা রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদকের নাম 



















