ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাকর্মী ও কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের মধ্যে তৈরি হওয়া বিরোধের সমাধান হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, বিষয়টি তাদের নিজেদের মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝি এবং আলোচনার মাধ্যমে এর অবসান হয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় গিয়ে কওমি ছাত্র ও শিক্ষকদের সঙ্গে বৈঠক করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় হাসনাত আবদুল্লাহর পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
বৈঠক শেষে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। জুলাই আন্দোলনেও তারা একসঙ্গে মাঠে ছিলেন। আলেমদের প্রতি শ্রদ্ধার জায়গা থেকেই তাদের কাছে এসে বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং শিক্ষকদের দোয়া নিয়েছেন।
তিনি বলেন, দুঃখ প্রকাশ করাকে ছোট হওয়ার বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সম্পর্ক অটুট রাখার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতাও হয়েছে।
বৈঠকে কওমি ছাত্রদের পক্ষ থেকে হাসনাত আবদুল্লাহর একটি বক্তব্যের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে দেওয়া বক্তব্যে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে, সেটি যেন সংশোধন বা সঠিক তথ্যসহ আবার সংসদে তুলে ধরা হয়।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, হাসনাত আবদুল্লাহ এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আলেম-ওলামাদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের এবং সবাই একই বৃহত্তর পরিসরের অংশ হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বাইরে থেকে যারা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন, তাদের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এটি তাদের নিজেদের ঘরের বিষয়। ইতোমধ্যে ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে এবং সমস্যাটির সমাধানও হয়েছে।
এ সময় সাম্প্রতিক সংঘর্ষের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার সমালোচনা করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, মাদরাসাছাত্রদের পাশে যথাযথভাবে দাঁড়ানো হয়নি এবং তাদের বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয়নি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ ও মাদরাসাছাত্রদের সংঘর্ষ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাদরাসাছাত্ররা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত গানের অনুষ্ঠান বন্ধ করেনি। বরং পুলিশের হামলায় প্রায় ৩০ জন মাদরাসাছাত্র আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বৈঠকে মাদরাসার মুহতামিম মুফতি মোবারক উল্লাহ, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা আলী আকবর এবং কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা খালেদ সাইফুল্লাহসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















