আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সাম্প্রতিক ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গ্রিনল্যান্ডে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত সৈন্য মোতায়েন করেছে ডেনমার্ক। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপটি যুক্তরাষ্ট্রের অধিগ্রহণের দাবি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর কোপেনহেগেন এ পদক্ষেপ নিল।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড শুরু থেকেই ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রস্তাব দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
ডেনমার্কের নতুন ও সম্প্রসারিত বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা কর্মসূচির প্রথম ব্যাচের অংশ হিসেবে এসব সৈন্যকে গ্রিনল্যান্ডে পাঠানো হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আর্কটিক অঞ্চলে কাজের উপযোগী দক্ষতা অর্জন করাই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।
১৯ বছর বয়সী সৈনিক ডেভিড বলেন, এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে ডেনমার্কের উপস্থিতির বিষয়টি জানান দেওয়া হচ্ছে। নিজেদের স্বার্থের পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের মানুষের বিষয়টিও তারা বিবেচনায় রাখছেন বলে জানান তিনি।
চরম আবহাওয়ায় সামরিক প্রশিক্ষণ
গ্রিনল্যান্ডে মোতায়েন সৈন্যরা বর্তমানে চরম ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় যুদ্ধ ও টিকে থাকার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ‘আর্কটিক অ্যান্ডুরেন্স’ নামের সামরিক মহড়ার আওতায় গাছপালাহীন পাথুরে ভূখণ্ডে চলছে তাদের কঠোর অনুশীলন।
সৈন্যদের কোম্পানি কমান্ডার ক্যাপ্টেন লরা জেপসেন বলেন, বিরূপ ভূখণ্ড ও জলবায়ুতে সৈন্যদের প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বাড়ানোই এই মহড়ার মূল লক্ষ্য। এটি ন্যাটোর ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ মিশনের অংশ।
ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বক্তব্যের পর চলতি বছর আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো এবং জোটের সদস্যদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে এ মিশন শুরু হয়েছে।
আর্কটিকে রাশিয়া-চীনের তৎপরতা
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ আর্কটিক অঞ্চলে ন্যাটোর সামরিক তৎপরতাকে নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে রাশিয়া। আর্কটিকে রাশিয়ার বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। একই সঙ্গে চীনও রাশিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এ অঞ্চলে নিজেদের কার্যক্রম বাড়িয়েছে।
এর মধ্যে আর্কটিকে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে ডেনমার্ক। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগে এ অঞ্চলে দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত বিনিয়োগের কথা স্বীকার করে আর্কটিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে শত শত কোটি ডলার ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
২২ বছর বয়সী সৈনিক আন্তন বলেন, গ্রিনল্যান্ডে এই উপস্থিতি ডেনমার্ক ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের আরও শক্তিশালী করছে—এমন একটি বার্তা দিচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















