
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন। এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট তার আগাম জামিনের আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন।
বুধবার হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শেষে এই রায় দেওয়া হয়। এর ফলে এই মামলায় সোহমের গ্রেফতার এড়ানোর পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল বলে মনে করছেন আইনি বিশেষজ্ঞরা। এর আগে গত জুন মাসে বালুরঘাট জেলা আদালতও একই মামলায় তার আগাম জামিন আবেদন খারিজ করেছিলেন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সূত্রপাত ২০১৮ সালে। সে সময় একটি নতুন বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন এক পরিচালক। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি সোহমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং অগ্রিম বাবদ তাকে ১৫ লাখ টাকা দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, টাকা নেওয়ার পর থেকেই অভিনেতা নানা অজুহাতে শুটিং পেছাতে থাকেন।
প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলে এবং প্রযোজকের আর্থিক অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে তিনি সোহমের কাছে টাকা ফেরত চান। অভিযোগকারীর দাবি, অর্থ ফেরত চাওয়ামাত্রই তাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয়; এমনকি প্রাণনাশের হুমকি ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখানো হয়।
অভিযোগকারী আরও জানান, তৎকালীন সময়ে সোহম রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী দলের বিধায়ক ও শাসকদলের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তিনি সে সময় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস পাননি। পরবর্তীতে রাজ্য রাজনীতিতে প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়ে প্রতারণা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। আইনজীবীদের মতে, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা না পাওয়ায় সোহম চক্রবর্তীর আইনি লড়াই এখন আরও কঠিন ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।
প্রতিবেদকের নাম 





















