‘আমার সন্তানদের এতিম করে মরতে চাই না। ওরা এখনও অনেক ছোট। আমি বেঁচে থাকতে চাই, শুধু ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে।’— কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ক্যান্সারে আক্রান্ত সুজিনা বেগম।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস ইউনিয়নের জয়কলস গ্রামের ফকির বাড়ির বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী সুজিনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত। গলার দুই পাশে বড় ধরনের টিউমার হওয়ায় তিনি ঠিকমতো খেতে বা কথা বলতে পারেন না। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে বেশিরভাগ সময়ই শয্যাশায়ী থাকতে হচ্ছে তাকে।
দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা চললেও অর্থাভাবে এখন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে কেমোথেরাপি। দিনমজুর স্বামী আমিনুল হকের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন পরিবারটি।
চার সন্তানের জননী সুজিনা বলেন, “বয়সে নয়, রোগেই বুড়িয়ে গেছি। আমার একটাই চাওয়া, সন্তানগুলোকে এতিম করে যেন চলে যেতে না হয়।”
স্বামী আমিনুল হক জানান, স্ত্রীকে বাঁচাতে যা কিছু ছিল সবই চিকিৎসার পেছনে ব্যয় করেছেন। এখন বসতভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই। সংসারের অভাবে বড় ছেলে সাইম আহমদ (১৪) সিলেটের একটি কারখানায় মাসে ৬ হাজার টাকা বেতনে কাজ করছে। মেয়ে ওয়াকিয়া বেগম (১১) মায়ের সেবাযত্ন ও সংসারের কাজ সামলাতে গিয়ে নিয়মিত স্কুলে যেতে পারছে না। অন্য দুই সন্তান সিয়াম আহমদ (৮) ও মুনতাহা জান্নাতের (২) ভবিষ্যৎ নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।
প্রতিবেশী আফিয়া বেগম বলেন, সুজিনা আগে সংসারের সব কাজ নিজেই করতেন। এখন অসুস্থতার কারণে ঠিকমতো চলাফেরা কিংবা খাবার খেতেও পারেন না। পরিবারটি চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মছকু মিয়া জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসচ্ছল। ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সরকারি সহায়তার আওতায় আনতে উপজেলা সমাজসেবা অফিসে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ও হেড-নেক সার্জন ডা. এম. নূরুল ইসলাম বলেন, রোগীর বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় অপারেশন না করাই ভালো। তবে নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ কেমোথেরাপি এবং রেডিওথেরাপি নিশ্চিত করা গেলে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে অর্থাভাবে চিকিৎসা ব্যাহত হওয়ায় সুজিনা বেগমের পরিবার সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, দানশীল সংগঠন ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা কামনা করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের কাছে দোয়া ও মানবিক সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে।
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি 




















