ঢাকা ০৭:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২ ফিলিস্তিনি ৩৬ বছর পেটে ছিল মৃত ভ্রূণ, অস্ত্রোপচারে বেরিয়ে এলো ‘পাথর শিশু’ সংকটে পড়লেই জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখে: আব্দুল বারী ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বসালে মিলবে ইউনিটপ্রতি ১০ টাকা ৫০ পয়সা মহানবী (সা.)-এর জন্মবার্ষিকীতে ইরানে ২,৫৭৭ বন্দির সাজা কমছে জামায়াতে যোগ দিলেন ইয়াকুব সরকার, সঙ্গে ৬০ নেতাকর্মী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ফের আলোচনা, তবে সময় চূড়ান্ত হয়নি ক্ষমতায় গেলে বিএনপির বেকার নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ: কিরন সাত ক্রিকেটারকে ফেরানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ মিসবাহ, ছাড়লেন নির্বাচকের পদ পুলিশের সামনেই নারীকে মারধর, রাজবাড়ীতে গ্রেপ্তার ৩
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

জিয়া হত্যার পুনঃতদন্তে ৪৫ বছর পর নতুন সূত্রের সন্ধান

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬ সময় দেখুন

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর পুনঃতদন্তে নতুন কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের মোবাইল ফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের যোগাযোগ ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ডেঙ্গুতে একদিনে মৃত্যু নেই, হাসপাতালে ভর্তি ৮৬৮

জিয়া হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের ভেতর ও বাইরের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানতে চাইছেন, এত বছর পর ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে মোজাফফরের যোগাযোগের কারণ কী ছিল, তিনি কীভাবে দেশে ফিরেছিলেন এবং কার পৃষ্ঠপোষকতায় এতদিন ছিলেন। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিভিন্ন তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ১৯৮১ সালের হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়েও নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তদন্তকারীরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরে অটোরিকশা চালককে কুপিয়ে হত্যা

মেজর জেনারেল মঞ্জুরের মৃত্যুও তদন্তের আওতায়

পুনঃতদন্তে তৎকালীন মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরের মৃত্যুর ঘটনাটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। জিয়াউর রহমান হত্যার পর গ্রেপ্তার হওয়া মঞ্জুরকে কেন পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়—এসব প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিলেন এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন—দুই ঘটনাই এখনো নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ বিষয়ে তৎকালীন জীবিত সেনা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য, অভ্যন্তরীণ নথি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।

সামনে এসেছে কথিত ‘সিক্রেট পেপার’

তদন্তে জিয়াউর রহমানের কাছে থাকা একটি কথিত ‘সিক্রেট পেপার’-এর বিষয়ও সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ওই নথি কেন খোঁজা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির ও ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততার বিষয়ও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।

দীর্ঘ সময় পর শুরু হওয়া এই পুনঃতদন্তে পুরোনো নথি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্য এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর আলামত একত্র করে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বের করার চেষ্টা চলছে।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

গাজায় ফের ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২ ফিলিস্তিনি

জিয়া হত্যার পুনঃতদন্তে ৪৫ বছর পর নতুন সূত্রের সন্ধান

আপডেটের সময়: ০৬:৩০:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছর পর পুনঃতদন্তে নতুন কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য যোগাযোগের সূত্র পাওয়ার দাবি করেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনের মোবাইল ফোনের তথ্যসহ বিভিন্ন ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের যোগাযোগ ও সম্ভাব্য ষড়যন্ত্রের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে জিয়াউর রহমান হত্যার সময় তিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর নথিপত্র তল্লাশি এবং মরদেহ সরানোর কাজেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংকের নৈশপ্রহরী, আতঙ্কে আমানতকারীরা

জিয়া হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পাওয়া বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, মোজাফফর হোসেনকে ঘিরে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। দেশের ভেতর ও বাইরের কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের তথ্যও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানতে চাইছেন, এত বছর পর ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে মোজাফফরের যোগাযোগের কারণ কী ছিল, তিনি কীভাবে দেশে ফিরেছিলেন এবং কার পৃষ্ঠপোষকতায় এতদিন ছিলেন। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বিভিন্ন তথ্য ও ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে ১৯৮১ সালের হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল, তা নিয়েও নতুন করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে তদন্তকারীরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করেছেন।

আরও পড়ুনঃ  জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে ত্যাগ স্বীকার করতে হবে: বিমানমন্ত্রী

মেজর জেনারেল মঞ্জুরের মৃত্যুও তদন্তের আওতায়

পুনঃতদন্তে তৎকালীন মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরের মৃত্যুর ঘটনাটিও গুরুত্ব পাচ্ছে। জিয়াউর রহমান হত্যার পর গ্রেপ্তার হওয়া মঞ্জুরকে কেন পুলিশ হেফাজত থেকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়—এসব প্রশ্নেরও উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

বিশেষ প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা বলেন, জিয়াউর রহমানকে কে গুলি করেছিলেন এবং মেজর জেনারেল মঞ্জুর কীভাবে নিহত হয়েছিলেন—দুই ঘটনাই এখনো নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ বিষয়ে তৎকালীন জীবিত সেনা কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য, অভ্যন্তরীণ নথি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হবে।

সামনে এসেছে কথিত ‘সিক্রেট পেপার’

তদন্তে জিয়াউর রহমানের কাছে থাকা একটি কথিত ‘সিক্রেট পেপার’-এর বিষয়ও সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর ওই নথি কেন খোঁজা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের অংশ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  চরমোনাই পীরের বক্তব্য: নীতি-আদর্শে গড়ে উঠলেই রাষ্ট্রে ইসলামের পতাকা উড়বে

এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে লেফটেন্যান্ট মোসলেহ উদ্দিন, মেজর ফজলুল হক, ক্যাপ্টেন সালাউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ মো. মুনির ও ক্যাপ্টেন মো. ইলিয়াসের সম্পৃক্ততার বিষয়ও নতুন করে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষ প্রসিকিউটর।

দীর্ঘ সময় পর শুরু হওয়া এই পুনঃতদন্তে পুরোনো নথি, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ তথ্য এবং নতুন প্রযুক্তিনির্ভর আলামত একত্র করে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা বের করার চেষ্টা চলছে।