
জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগ জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রেরণা দেয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের ঋণ কখনো শোধ করা সম্ভব নয়। তবে তাদের পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব।
বুধবার (১৬ জুলাই) চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবস্থিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, দেশের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে জুলাই-আগস্টের গণআন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই এ অঞ্চলের মানুষের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি জানান, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে চট্টগ্রাম থেকে তিনজনসহ সারাদেশে বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন, যাদের আত্মত্যাগ জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।
তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়নের জন্য জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জুলাই-আগস্টের চেতনাকে ধারণ করে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছেন। তাদের খোঁজখবর নেওয়া, পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সঙ্গে তিনি নিজেও সাক্ষাৎ করেছেন। একই সঙ্গে দেশের সব শহীদ পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেন।
এ সময় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে শহীদ ওয়াসিম আকরামের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন মেয়র। তিনি বলেন, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী প্রত্যেক শহীদের নাম যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কোনো শহীদের নাম বাদ পড়া দুঃখজনক এবং বিষয়টি দ্রুত সংশোধন করা প্রয়োজন।
নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শহীদদের আত্মত্যাগ, আন্দোলনের প্রকৃত ঘটনা ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিকৃত না করে যথাযথভাবে প্রচার করা প্রয়োজন।
স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ প্রসঙ্গে মেয়র জানান, বর্তমানে এটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে এবং দায়িত্ব হস্তান্তর করা হলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এর সংরক্ষণ ও উন্নয়নের দায়িত্ব গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, অতীতের মতো ভবিষ্যতেও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন জুলাই-আগস্টের আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
প্রতিবেদকের নাম 











