দেশের টেক্সটাইল শিল্পকে আর্থিক সংকট থেকে উত্তরণ, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং রপ্তানিমুখী শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ দফা নীতিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল এসব প্রস্তাব তুলে ধরে।
বিটিএমএর প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ঋণের কার্যকর সুদহার পুনরায় ৯ শতাংশে নামিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি রোধ, শিল্পে তারল্য ফিরিয়ে আনা এবং রপ্তানি সক্ষমতা ধরে রাখতে এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (ইডিএফ) সম্প্রসারণ ও গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড (জিটিএফ) আরও শক্তিশালী করা।
সংগঠনটি জানায়, বর্তমানে তাদের আওতায় প্রায় ১ হাজার ৮৫০টি স্পিনিং, উইভিং, ডাইং, প্রিন্টিং ও ফিনিশিং মিল রয়েছে, যেখানে প্রায় ৫১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ হয়েছে। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ৮৫ শতাংশের বেশি আসে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, জ্বালানির উচ্চ মূল্য, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং উচ্চ সুদহারের কারণে অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান আর্থিক সংকটে পড়েছে।
বিটিএমএর ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে বন্ধ মিল ও চলতি মূলধনের প্রাক-অনুমোদিত ঋণের মেয়াদ বাড়ানো, জিটিএফ তহবিলের আকার বৃদ্ধি, পরিবেশবান্ধব জিরো লিকুইড ডিসচার্জ (জেডএলডি) প্রকল্পে বিশেষ অর্থায়ন, ক্ষতিগ্রস্ত ঋণগ্রহীতাদের পুনর্গঠন আবেদনের সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বৃদ্ধি এবং ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির আওতায় দেশীয় মিলগুলোর বিল সর্বোচ্চ সাত কর্মদিবসের মধ্যে পরিশোধ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারি।
এ ছাড়া ঋণ শ্রেণিকরণে ওভারডিউ কিস্তির সংখ্যা তিনটির পরিবর্তে আগের মতো ছয়টি নির্ধারণ, ইডিএফের সীমা বাড়ানো, ইডিএফ ঋণের সুদহার পুনরায় ২ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে এলসি ও বিল নিষ্পত্তির জটিলতা নিরসনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, প্রি-শিপমেন্ট ক্রেডিট পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা, বিশেষায়িত অঞ্চলের জন্য নগদ সহায়তা পুনর্বহাল এবং প্রস্তাবিত নীতিগত সহায়তাগুলো বাস্তবায়িত হলে টেক্সটাইল শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি কমবে এবং দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প আরও শক্তিশালী হবে।
প্রতিবেদকের নাম 











