তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে আগামী ডিসেম্বর থেকে দেশে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ ও ক্যারিয়ার ফেয়ারের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে ঢাকায় এই কার্যক্রম চালু করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে বিভাগ ও জেলা পর্যায়ে তা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোববার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
তিনি জানান, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনার পরিকল্পনা
মাহদী আমিন বলেন, তরুণদের সঠিকভাবে কাজে লাগাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনশক্তিতে পরিণত করতে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও শ্রমবাজারের চাহিদাকে একই প্ল্যাটফর্মে আনা হবে।
এ উদ্যোগের আওতায় একদিকে কর্মক্ষম তরুণদের দক্ষতা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তথ্য সংরক্ষণ করা হবে। অন্যদিকে স্থানীয় শিল্প, ব্যবসা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জনবলের চাহিদার তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এসব তথ্যের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
নিয়মিত হবে ক্যারিয়ার ফেয়ার
চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে সরাসরি নিয়োগদাতাদের যোগাযোগ তৈরির জন্য দেশব্যাপী নিয়মিত ক্যারিয়ার ফেয়ার আয়োজন করা হবে। জেলা পর্যায়েও এসব মেলার আয়োজনের মাধ্যমে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে দীর্ঘদিনের দূরত্ব কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সরকারের পরিকল্পনায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার কথাও রয়েছে। এর মাধ্যমে চাকরির বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি হিসেবে সিভি লেখা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং চাকরির সাক্ষাৎকার মোকাবিলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে।
বিদেশ যেতে আগ্রহীদেরও সহায়তা
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা—উভয় পক্ষের নিবন্ধনের ব্যবস্থা থাকবে। বিদেশে যেতে আগ্রহী তরুণ-তরুণীরাও এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।
মাহদী আমিন জানান, আন্তর্জাতিক নিয়োগদাতারা সরাসরি প্ল্যাটফর্মে নিবন্ধিত না হলেও বিদেশে যেতে আগ্রহীদের নিবন্ধনের পর সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার কিংবা কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে।
ছয় মাস ধরে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা
উপদেষ্টা বলেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত ছয় মাস ধরে শিল্পখাত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, এনজিও, সরকারি সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। এসব আলোচনার ভিত্তিতে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ডিসেম্বর থেকে কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে কোনো তরুণ তার ক্যারিয়ার লক্ষ্য জানালে তাকে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠান বা কর্মসংস্থানের সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















