ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার স্মৃতি আজও অমলিন। প্রিয় বন্ধু ও সহশিল্পীর প্রয়াণ দিবসে আবেগঘন বার্তায় তাকে স্মরণ করেছেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী।
‘৩০ বছর আগের সেই দিনটি আজও ভুলতে পারি না’
সালমান শাহর মৃত্যুর দিনের কথা স্মরণ করে মৌসুমী বলেন, তিন দশক পেরিয়ে গেলেও সেই দিনের কথা মনে পড়লে এখনো বুক ভার হয়ে আসে। ৩০ বছর আগে এই দিনেই এমন একটি সংবাদ শুনতে হয়েছিল, যা কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না তিনি—সালমান আর নেই।
প্রিয় বন্ধুকে হারানোর সেই শোক আজও তাকে নাড়া দেয় জানিয়ে মৌসুমী বলেন, সেদিন সেই শোক বুকে নিয়েই সালমানকে বিদায় জানাতে হয়েছিল। সময় অনেকটা এগিয়ে গেলেও তার স্মৃতি একটুও মলিন হয়নি। সালমান শাহকে ভুলে থাকা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
চার বছরের ক্যারিয়ারে বিস্ময়কর প্রভাব
মৌসুমীর মতে, মাত্র চার বছরের অভিনয়জীবনেই বাংলা চলচ্চিত্রে সালমান শাহ যে প্রভাব তৈরি করেছিলেন, তা ছিল বিস্ময়কর।
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত অভিনয়জীবনে সালমান অসাধারণ অভিনয় ও নিজস্ব ব্যক্তিত্ব দিয়ে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অসংখ্য দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন বলে জানান মৌসুমী।
তিনি বলেন, এত অল্প সময়ে বাংলা চলচ্চিত্রে সালমান যে অবস্থান তৈরি করে গেছেন, তা সত্যিই বিস্ময়কর।
‘আজও মনে প্রশ্ন জাগে’
সালমান শাহর আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে আজও তার মনে প্রশ্ন জাগে বলে জানান মৌসুমী। জীবনের ও ক্যারিয়ারের এত উজ্জ্বল সময়ে কেন সালমান সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন—এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো কখনো পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেয়ে সালমানের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোর স্মৃতি মনে করতেই বেশি ভালো লাগে মৌসুমীর।
তার ভাষায়, কল্পনার ভেতর এখনো সালমানের সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়। নিজের জায়গায় সালমান ছিলেন অনন্য।
দর্শকের ভালোবাসায় বেঁচে থাকবেন সালমান
মৌসুমী বলেন, চলচ্চিত্র যত দিন বেঁচে থাকবে, দর্শকের ভালোবাসায় সালমান শাহও তত দিন বেঁচে থাকবেন।
মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেছিলেন সালমান শাহ। তার অভিনীত সিনেমা ও গান এখনো দর্শক-শ্রোতাদের কাছে সমান জনপ্রিয়। প্রজন্ম বদলালেও তার প্রতি দর্শকের ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি।
মৃত্যুর তিন দশক পরও তাই সালমান শাহ শুধু একটি নাম নন; বাংলা চলচ্চিত্রে তিনি এমন এক অমর নায়ক, যাকে ঘিরে দর্শকের ভালোবাসা আজও একইভাবে জীবন্ত।
প্রতিবেদকের নাম 




















