কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, গুরুতর আহত দুজন
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বর ও তার বাবাসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৪৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে করিমগঞ্জের নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়িটি গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজলের পক্ষের কয়েকজন যুবক সেটি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাজলের পক্ষের লোকজনের সঙ্গে বারঘড়িয়া এলাকার আশকর আলীর বংশের বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়ির ঘটনাও ঘটে।
বর ও তার বাবাসহ আহত ৪৬
সংঘর্ষে বর মো. হানিফ ও তার বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত ৪৬ জন আহত হন। স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য
ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কাজল দাবি করেন, গাবতলী বাজারে যানজটকে কেন্দ্র করে এক অটোরিকশাচালকের সঙ্গে বরপক্ষের লোকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। তার পক্ষের লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করতে গেলে একপর্যায়ে বরপক্ষের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বাধে। এতে তাদের পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে বরপক্ষের হেলাল বলেন, বরযাত্রীর গাড়ি গাবতলী বাজারে পৌঁছালে কাজলের ভাই-ভাতিজারা গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষ শুরু হয়। তার দাবি, বরপক্ষের অন্তত ৩০ জন এতে আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক
খবর পেয়ে করিমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের লোকজন সরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। বর্তমানে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 




















