ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিনা সুদে কৃষিঋণ বিতরণের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই : অর্থমন্ত্রী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের টাকা ফেরতের আবেদন গ্রহণ শেষ হচ্ছে আজ রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তায় আরো ১৫ হাজার টন চাল দিল দ. কোরিয়া দুই সপ্তাহের মধ্যে জানা যাবে স্থানীয় নির্বাচন কবে: ইসি আনোয়ারুল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির নেতাকে ছাত্রদল নেতার থাপ্পড়, রামদা নিয়ে মহড়া বিদেশভ্রমণে বছরে ১৮ হাজার ডলার খরচ করা যাবে অত্যাচারের স্টিম রোলার চালানো হয়েছে, তবুও দেশ ছাড়িনি: জামায়াত আমির নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পৌর শাখার সভাপতি গ্রেপ্তার ২ দিনের সফরে ঠাকুরগাঁওয়ের পথে রাষ্ট্রপতি শাবনূরের সঙ্গে বারবিকিউ পার্টিতে তাসকিন
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্রে বদল, নতুন বিশ্বচিত্রে আফ্রিকার আয়তন আরও স্পষ্ট

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১০:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৫ সময় দেখুন

বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। মহাদেশগুলোর আয়তন তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে ‘মারকেটর প্রজেকশন’-এর বিকল্প হিসেবে ‘ইকুয়াল আর্থ’ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়াকে তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যাবে। বিপরীতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আয়তন প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় ছোট দেখাবে।

কেন বদলানো হচ্ছে প্রচলিত মানচিত্র

‘মারকেটর প্রজেকশন’ তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর। ১৫৬৯ সালে তৈরি এই মানচিত্র মূলত সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  জামায়াতে যোগ দিলেন ইয়াকুব সরকার, সঙ্গে ৬০ নেতাকর্মী

তবে গোলাকার পৃথিবীকে সমতল কাগজে উপস্থাপন করতে গিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তনে বিকৃতি তৈরি হয়। এতে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বড় এবং বিষুবীয় অঞ্চলের দেশগুলো ছোট দেখায়।

ফলে প্রচলিত মানচিত্রে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে বাস্তবের তুলনায় বড় মনে হয়। একইভাবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

জাতিসংঘের নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এই আয়তনগত বিকৃতি কমিয়ে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আকারের কাছাকাছি একটি চিত্র তুলে ধরা।

২০১৮ সালে তৈরি হয় ‘ইকুয়াল আর্থ’

একদল মানচিত্রবিদ ২০১৮ সালে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন তৈরি করেন। এই পদ্ধতিতে মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন বজায় রাখার পাশাপাশি পৃথিবীর গোলকের ওপর তাদের প্রকৃত আকৃতিও যতটা সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ইকুয়াল আর্থের অন্যতম নির্মাতা বোয়ান সাভরিচ ২০২৫ সালে এএফপিকে বলেছিলেন, এই মানচিত্র মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন ধরে রাখে এবং পৃথিবীর গোলকের ওপর থাকা তাদের প্রকৃত আকৃতি যতটা সম্ভব উপস্থাপন করে।

আরও পড়ুনঃ  অবৈধ অস্ত্রের দাপটে বাড়ছে গুলির ঘটনা, বেপরোয়া শ্যুটাররা

প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি বলেন, মানচিত্র মানুষের শিক্ষা ও কল্পনাকে প্রভাবিত করে এবং পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের সামষ্টিক ধারণা গড়ে তোলে।

তার ভাষায়, মানচিত্র পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। পৃথিবীর বিকৃত চিত্র তুলে ধরলে সেই ভুল ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি

জাতিসংঘের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যাগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে জাতিসংঘ ১৬ শতকের মানচিত্র, ক্ষতিপূরণ এবং তথাকথিত ‘কগনিটিভ জাস্টিস’ নিয়ে আলোচনা করছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণেই জাতিসংঘ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতি, বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৫

ফ্রান্সও বদলাচ্ছে প্রচলিত মানচিত্র

নতুন মানচিত্রের পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে। শুক্রবার দেশটি জানায়, তারা আর প্রচলিত মারকেটর মানচিত্র ব্যবহার করবে না।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, প্রচলিত মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় ও প্রভাবশালী দেখা যায়। এমনকি গ্রিনল্যান্ডকেও প্রায় আফ্রিকার সমান বড় মনে হয়।

তিনি বলেন, মানচিত্র পরিবর্তন করলেই পৃথিবী বদলে যায় না। তবে একটি বিকৃত চিত্র সংশোধন করা সত্যকে তুলে ধরার একটি পদক্ষেপ।

আফ্রিকার সঙ্গে, বিশেষ করে সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে ফ্রান্স। ফলে নতুন মানচিত্র গ্রহণের উদ্যোগকে দেশটির বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিনা সুদে কৃষিঋণ বিতরণের আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই : অর্থমন্ত্রী

৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্রে বদল, নতুন বিশ্বচিত্রে আফ্রিকার আয়তন আরও স্পষ্ট

আপডেটের সময়: ১০:০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ। মহাদেশগুলোর আয়তন তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মতভাবে তুলে ধরতে ‘মারকেটর প্রজেকশন’-এর বিকল্প হিসেবে ‘ইকুয়াল আর্থ’ কার্টোগ্রাফিক প্রজেকশন ব্যবহারের পক্ষে ভোট দিয়েছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। বিপক্ষে ভোট দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আরও ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।

নতুন মানচিত্রে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও ওশেনিয়াকে তুলনামূলকভাবে বড় দেখা যাবে। বিপরীতে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার আয়তন প্রচলিত মানচিত্রের তুলনায় ছোট দেখাবে।

কেন বদলানো হচ্ছে প্রচলিত মানচিত্র

‘মারকেটর প্রজেকশন’ তৈরি করেছিলেন ফ্লেমিশ মানচিত্রবিদ জেরার্ডাস মারকেটর। ১৫৬৯ সালে তৈরি এই মানচিত্র মূলত সমুদ্রপথে নৌ চলাচলের সুবিধার কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ  ছয় দিন পর কাপ্তাই হ্রদের পানি থেকে ভেসে উঠল রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু

তবে গোলাকার পৃথিবীকে সমতল কাগজে উপস্থাপন করতে গিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের আয়তনে বিকৃতি তৈরি হয়। এতে উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো তুলনামূলকভাবে বড় এবং বিষুবীয় অঞ্চলের দেশগুলো ছোট দেখায়।

ফলে প্রচলিত মানচিত্রে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকাকে বাস্তবের তুলনায় বড় মনে হয়। একইভাবে আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকাকে তুলনামূলকভাবে ছোট দেখায়।

জাতিসংঘের নতুন প্রস্তাবের লক্ষ্য হলো এই আয়তনগত বিকৃতি কমিয়ে মহাদেশগুলোর প্রকৃত আকারের কাছাকাছি একটি চিত্র তুলে ধরা।

২০১৮ সালে তৈরি হয় ‘ইকুয়াল আর্থ’

একদল মানচিত্রবিদ ২০১৮ সালে ‘ইকুয়াল আর্থ’ প্রজেকশন তৈরি করেন। এই পদ্ধতিতে মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন বজায় রাখার পাশাপাশি পৃথিবীর গোলকের ওপর তাদের প্রকৃত আকৃতিও যতটা সম্ভব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

ইকুয়াল আর্থের অন্যতম নির্মাতা বোয়ান সাভরিচ ২০২৫ সালে এএফপিকে বলেছিলেন, এই মানচিত্র মহাদেশগুলোর আপেক্ষিক আয়তন ধরে রাখে এবং পৃথিবীর গোলকের ওপর থাকা তাদের প্রকৃত আকৃতি যতটা সম্ভব উপস্থাপন করে।

আরও পড়ুনঃ  সালমান শাহকে স্মরণে টানা সাত দিন পর্দায় সাত জনপ্রিয় সিনেমা

প্রস্তাবটির অন্যতম উদ্যোক্তা টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসি বলেন, মানচিত্র মানুষের শিক্ষা ও কল্পনাকে প্রভাবিত করে এবং পৃথিবী সম্পর্কে মানুষের সামষ্টিক ধারণা গড়ে তোলে।

তার ভাষায়, মানচিত্র পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। পৃথিবীর বিকৃত চিত্র তুলে ধরলে সেই ভুল ধারণা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি

জাতিসংঘের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটের আগে মার্কিন প্রতিনিধি ইয়ারিনা ফেরেনসেভিচ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যাগুলোতে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে জাতিসংঘ ১৬ শতকের মানচিত্র, ক্ষতিপূরণ এবং তথাকথিত ‘কগনিটিভ জাস্টিস’ নিয়ে আলোচনা করছে।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণেই জাতিসংঘ তার বিশ্বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ  বনানীতে ডাকাতির প্রস্তুতি, বিদেশি পিস্তলসহ গ্রেপ্তার ৫

ফ্রান্সও বদলাচ্ছে প্রচলিত মানচিত্র

নতুন মানচিত্রের পক্ষে থাকা দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও রয়েছে। শুক্রবার দেশটি জানায়, তারা আর প্রচলিত মারকেটর মানচিত্র ব্যবহার করবে না।

ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো বলেন, প্রচলিত মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীনকে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তুলনায় অস্বাভাবিকভাবে বড় ও প্রভাবশালী দেখা যায়। এমনকি গ্রিনল্যান্ডকেও প্রায় আফ্রিকার সমান বড় মনে হয়।

তিনি বলেন, মানচিত্র পরিবর্তন করলেই পৃথিবী বদলে যায় না। তবে একটি বিকৃত চিত্র সংশোধন করা সত্যকে তুলে ধরার একটি পদক্ষেপ।

আফ্রিকার সঙ্গে, বিশেষ করে সাবেক ফরাসি উপনিবেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে ফ্রান্স। ফলে নতুন মানচিত্র গ্রহণের উদ্যোগকে দেশটির বৃহত্তর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আরব নিউজ