ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামমুখী ১১ দলের লং মার্চ শুরু শনিবার ঢাকার যেসব মার্কেট ও দর্শনীয় স্থান বন্ধ থাকবে ১০ লাখ ঋণে উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ, সফল হলে মিলবে আরও ১০ লাখ সৈয়দপুরে নতুন উপ-শাখা চালু করল মিডল্যান্ড ব্যাংক সীমান্তে জমিতে কাজ করার সময় গুলিবিদ্ধ কৃষক, শরীরে গুলি নিয়ে চমেকে ৫০০ বছরের পুরোনো মানচিত্রে বদল, নতুন বিশ্বচিত্রে আফ্রিকার আয়তন আরও স্পষ্ট লিড নিয়েও মোনাকোর কাছে হার, তিন ম্যাচে জয়হীন পিএসজি ঢাকার বাতাসে কিছুটা স্বস্তি, এয়ার কোয়ালিটি স্কোর ৯২ পূর্ববিরোধের জেরে স্কুলশিক্ষককে ঘিরে ছুরিকাঘাত, গুরুতর আহত বাধা এলে লংমার্চের ছয় দফা এক দফায় রূপ নেবে: নাহিদ ইসলাম
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

অবৈধ অস্ত্রের দাপটে বাড়ছে গুলির ঘটনা, বেপরোয়া শ্যুটাররা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৮ সময় দেখুন

আইন-শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে সারা দেশে দেড় শতাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩৫টি ঘটনায় গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬১ জন।

রাজধানী থেকে গ্রাম—বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। এসব ঘটনায় কিশোর-তরুণদের একটি অংশ অর্থের বিনিময়ে ‘শ্যুটার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য থেকে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

রাজধানীতে একের পর এক গুলির ঘটনা

গত শুক্রবার ভোরে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় বিএনপি নেতা এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল সন্ত্রাসী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টার দিকে গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে তিনি দেখতে পান, চারটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা অন্তত আটজনের একটি দল তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে।

ডেমরা থানার ওসি মো. তাইফুর রহমান মির্জা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মাদক কারবারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রামের রাউজানে স্থানীয় যুবদলকর্মী মোহাম্মদ আবদুল করিমকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর গেণ্ডারিয়াতেও সম্প্রতি এলোপাতাড়ি গুলিতে স্থানীয় দোকানি ও পথচারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। স্বামীবাগের মুনশিরটেক জামে মসজিদের গলিতে স্থানীয় বিএনপিকর্মী মনির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ঘিরে এ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ছোরা ও ১৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মাতৃত্বকালীন ভাতা: মাসে ৮৫০ টাকা পাবেন যারা, আবেদন করবেন যেভাবে

সাত মাসে ঢাকায় ১৫ গুলির ঘটনায় নিহত ৬

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সাত মাসে রাজধানীতে অন্তত ১৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে ঢাকার বাইরে আরও ১১৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় ঘটেছে ৩১টি।

গত ৭ জুলাই রাতে মিরপুরে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় জামিল হোসেন ওরফে শ্যুটার জাকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, জাকির দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। তিনি কথিত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানভীর ইসলাম জয়ের সহযোগী হিসেবেও কাজ করছিলেন বলে গোয়েন্দারা জানায়।

এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে একটি বাসায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিশেষ অভিযানে উদ্ধার ৪৩৮ আগ্নেয়াস্ত্র

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সৈয়দপুরে নতুন উপ-শাখা চালু করল মিডল্যান্ড ব্যাংক

এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, চার হাজার ৭২২ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ১৬৫টি ম্যাগাজিন, ৬৫টি ককটেল, সোয়া দুই কেজি গান পাউডার, ৮৯৩টি দেশীয় অস্ত্র, ৭১টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং অস্ত্র ও বোমা তৈরির ২১টি সরঞ্জাম। এ ছাড়া ১০ হাজার ৩০০টি চকলেটবাজিও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৫৩টি পিস্তল, ৪৮টি শ্যুটারগান, ৪৫টি এলজি, ২৬টি রিভলবার, ১০৮টি বন্দুক, ২৬টি পাইপগান, সাতটি শটগান, সাতটি রাইফেল, তিনটি এসএমজি, ১২টি এয়ারগান ও একটি পেনগান।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে।

লুট হওয়া অস্ত্রের অনেকগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগই সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যায়। এর মধ্যে ১৩ শতাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে।

এর বাইরে সীমান্তের চোরাপথেও দেশে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করেই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

২০২৫ সালে দেশে ২৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্তত ৮০ জন নিহত হন বলে এইচআরএসএসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে ‘শ্যুটার’ হচ্ছে কিশোর-তরুণরা

শহর থেকে গ্রাম—বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তাদের একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে অর্থের বিনিময়ে তারা ‘শ্যুটার’ হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  বিরোধীদলের কর্মসূচি গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে অচলাবস্থা নয়: রিজভী

মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে এসব অস্ত্রধারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলাতেও তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে।

ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

লুট ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ অপরাধ বিশ্লেষকদের

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের মূল গডফাদার, প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশের লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই—এমন বার্তা স্পষ্ট হয়।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামমুখী ১১ দলের লং মার্চ শুরু

অবৈধ অস্ত্রের দাপটে বাড়ছে গুলির ঘটনা, বেপরোয়া শ্যুটাররা

আপডেটের সময়: ০৯:৩৬:৪১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইন-শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে সারা দেশে দেড় শতাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ১৩৫টি ঘটনায় গুলিতে নিহত হয়েছেন অন্তত ৬১ জন।

রাজধানী থেকে গ্রাম—বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, পূর্বশত্রুতা ও রাজনৈতিক বিরোধকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বাড়ছে। এসব ঘটনায় কিশোর-তরুণদের একটি অংশ অর্থের বিনিময়ে ‘শ্যুটার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

পুলিশ ও মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) তথ্য থেকে এসব চিত্র উঠে এসেছে।

রাজধানীতে একের পর এক গুলির ঘটনা

গত শুক্রবার ভোরে রাজধানীর ডেমরা এলাকায় বিএনপি নেতা এস এম রেজা চৌধুরী সেলিমের বাসা লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে একদল সন্ত্রাসী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর ৪টার দিকে গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। পরে তিনি দেখতে পান, চারটি মোটরসাইকেলে হেলমেট পরা অন্তত আটজনের একটি দল তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ছে।

ডেমরা থানার ওসি মো. তাইফুর রহমান মির্জা জানান, প্রাথমিক তদন্তে মাদক কারবারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই চট্টগ্রামের রাউজানে স্থানীয় যুবদলকর্মী মোহাম্মদ আবদুল করিমকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

রাজধানীর গেণ্ডারিয়াতেও সম্প্রতি এলোপাতাড়ি গুলিতে স্থানীয় দোকানি ও পথচারীসহ তিনজন গুলিবিদ্ধ হন। স্বামীবাগের মুনশিরটেক জামে মসজিদের গলিতে স্থানীয় বিএনপিকর্মী মনির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ঘিরে এ হামলা চালানো হয়।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি, একটি সুইচ গিয়ার চাকু, একটি ছোরা ও ১৬০টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বিরোধীদলের কর্মসূচি গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে অচলাবস্থা নয়: রিজভী

সাত মাসে ঢাকায় ১৫ গুলির ঘটনায় নিহত ৬

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সাত মাসে রাজধানীতে অন্তত ১৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ছয়জন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন।

একই সময়ে ঢাকার বাইরে আরও ১১৫টি গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় ঘটেছে ৩১টি।

গত ৭ জুলাই রাতে মিরপুরে থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম সিজুকে গুলি করা হয়। এ ঘটনায় জামিল হোসেন ওরফে শ্যুটার জাকির নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলিভর্তি একটি বিদেশি রিভলবার উদ্ধার করা হয়।

ডিবির দাবি, জাকির দীর্ঘদিন ধরে মিরপুর এলাকায় ভয়ভীতি দেখিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিলেন। তিনি কথিত ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ তানভীর ইসলাম জয়ের সহযোগী হিসেবেও কাজ করছিলেন বলে গোয়েন্দারা জানায়।

এ ছাড়া গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীতে একটি বাসায় ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ওয়াকিটকি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বিশেষ অভিযানে উদ্ধার ৪৩৮ আগ্নেয়াস্ত্র

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে ৫৩ হাজার ৫১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  নড়াইলে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু, নির্যাতনের অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে ৩ শিক্ষক

এ সময় উদ্ধার করা হয়েছে ৪৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, চার হাজার ৭২২ রাউন্ড গুলি ও কার্তুজ, ১৬৫টি ম্যাগাজিন, ৬৫টি ককটেল, সোয়া দুই কেজি গান পাউডার, ৮৯৩টি দেশীয় অস্ত্র, ৭১টি অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং অস্ত্র ও বোমা তৈরির ২১টি সরঞ্জাম। এ ছাড়া ১০ হাজার ৩০০টি চকলেটবাজিও উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ১৫৩টি পিস্তল, ৪৮টি শ্যুটারগান, ৪৫টি এলজি, ২৬টি রিভলবার, ১০৮টি বন্দুক, ২৬টি পাইপগান, সাতটি শটগান, সাতটি রাইফেল, তিনটি এসএমজি, ১২টি এয়ারগান ও একটি পেনগান।

পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও চলছে।

লুট হওয়া অস্ত্রের অনেকগুলো এখনো উদ্ধার হয়নি

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া পাঁচ হাজার ৭৬৩টি আগ্নেয়াস্ত্রের বেশির ভাগই সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যায়। এর মধ্যে ১৩ শতাধিক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি বলে জানা গেছে।

এর বাইরে সীমান্তের চোরাপথেও দেশে আগ্নেয়াস্ত্র প্রবেশ করছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এসব অস্ত্র ব্যবহার করেই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ড ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়েছে।

২০২৫ সালে দেশে ২৫০ জনের বেশি মানুষ গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্তত ৮০ জন নিহত হন বলে এইচআরএসএসের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থের বিনিময়ে ‘শ্যুটার’ হচ্ছে কিশোর-তরুণরা

শহর থেকে গ্রাম—বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তৎপরতা বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তাদের একটি বড় অংশ কিশোর ও তরুণ। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের সহযোগী হিসেবে অর্থের বিনিময়ে তারা ‘শ্যুটার’ হিসেবে কাজ করছে।

আরও পড়ুনঃ  পৌর ভবনে শত শত ডাস্টবিন পড়ে থাকায় বাবরের ক্ষোভ

মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারে এসব অস্ত্রধারীকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দিনের বেলাতেও তারা প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে ঘুরছে। সাধারণ মানুষকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ছিনতাই ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটছে।

ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করতেও সাহস পাচ্ছেন না বলে জানা গেছে।

অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার, ব্যর্থ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

লুট ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের জন্য বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট গঠনের কথাও জানিয়েছেন তিনি।

সম্প্রতি রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি জানান, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ অপরাধ বিশ্লেষকদের

অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকের মূল গডফাদার, প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও অবৈধ অস্ত্রধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলেন, পুলিশের লুট হওয়া অনেক অস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে, যাতে অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই—এমন বার্তা স্পষ্ট হয়।