দিনাজপুরে নিখোঁজের প্রায় সাড়ে তিন মাস পর চার বছর বয়সী শিশু রাকিবা আক্তার রুহির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির মা জিন্নাতুন, তার প্রেমিক রিপন টুডু ও সহযোগী সুজন টুডুকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোরে দিনাজপুর সদর উপজেলার জামতলী এলাকায় রিপন টুডুর বাড়ির পাশের নারিকেল বাগানে মাটি খনন করে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিদের নিয়ে রাতভর অভিযান চালিয়ে মরদেহের সন্ধান পায় পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপারের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার তিনজন হলেন শিশুটির মা জিন্নাতুন (১৯), তার প্রেমিক রিপন টুডু (৩৪) এবং সহযোগী সুজন টুডু (২০)। তাদের মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামের জমসেদ আলীর মেয়ে জিন্নাতুনের সঙ্গে একই ধর্মের রুবেলের প্রায় পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়। ছয় মাস আগে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হলে চার বছর বয়সী মেয়ে রাকিবা আক্তার রুহি মায়ের সঙ্গে নানার বাড়িতে থাকত।
এরপর নশিপুরের জামতলী এলাকার আদিবাসী উরাঁও সম্প্রদায়ের রিপন টুডুর সঙ্গে জিন্নাতুনের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে জিন্নাতুন শিশু রুহিকে নিয়ে রিপনের বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সম্পর্কের পথে বাধা দূর করতে প্রায় সাড়ে তিন মাস আগে রুহিকে শারীরিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনা গোপন করতে বাড়ির কাছে প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে শিশুটির বস্তাবন্দী মরদেহ সেখানে পুঁতে ফেলা হয়।
দুর্গন্ধে যাতে বিষয়টি নিয়ে মানুষের সন্দেহ না হয়, সে জন্য একটি কুকুর হত্যা করে সেটিকেও পাশের আরেকটি গর্তে পুঁতে রাখা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশুটির মায়ের অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাটি নিয়ে কাজ করছিলেন। সোমবার তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দুজনকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিপন হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুমের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এদিকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার ও জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে গত রোববার জামতলী এলাকায় রিপন টুডুর বাড়িতে হামলা চালান বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তারা বাড়ির মালামাল রাস্তায় এনে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কও অবরোধ করেন তারা।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
প্রতিবেদকের নাম 




















