ঢাকা ০১:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন বেনাভোলেন্ট অর্থ বার এসোসিয়েশন ফান্ডে অর্থ প্রদান করলেন জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। আইডি নম্বর S01731 দ্রুত দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার দাবি সাংবাদিক নেতাদের জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে আলোচনায় ছিলেন আরাফাত প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ঝাড়খণ্ডে চাকরির পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ, অনশনে ছাত্রনেতা ভারতের টেস্ট দলে কাশ্মিরি পেসার আকিব নবি পাকিস্তানে থানায় আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৭ টাঙ্গুয়ার হাওরের ইসিএ এলাকায় ইঞ্জিনচালিত নৌযান নিষিদ্ধ ‘শেখ হাসিনার ভাষায় কথা বলছে বিরোধী দল’ চোখে ব্যান্ডেজ বেঁধে নাসীরউদ্দীনের প্রতীকী প্রতিবাদ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দেশের সাইবার জগতের বড় অংশই ‘বট’, সতর্ক করলেন উপদেষ্টা

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সংলাপে অতিথি ও আলোচকেরা। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে দেশের সাইবার পরিসর নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাফিকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রকৃত ব্যবহারকারীর নয়, বরং ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম দ্বারা তৈরি।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া বা সাইবার বুলিং বিশ্লেষণ করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনটা বাস্তব ব্যবহারকারী আর কোনটা কৃত্রিম—এই পার্থক্য নির্ধারণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আয়োজিত বহুপক্ষীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  টানা ব্যর্থতার প্রভাব, ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন ব্রাজিলের মানুষ

সাইবার নিরাপত্তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে

উপদেষ্টা স্বীকার করেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী নয়। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের বড় অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত হওয়ায় শুধুমাত্র সরকারি নিরাপত্তা জোরদার করলেই পুরোপুরি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোও বট সমস্যার কথা স্বীকার করেছে এবং অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।

আইনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের গুরুত্ব

সংলাপে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ জোয়ান বারাতা বলেন, সাইবার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, অনলাইনে মতপ্রকাশকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সীমিত করা উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ  প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত শেষ হওয়ার দাবি জেলেনস্কির

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা অফলাইনে অপরাধ, তা অনলাইনেও অপরাধ—এর বাইরে বাড়তি কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা ঠিক নয়।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য

UNESCO-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু সীমা থাকা প্রয়োজন, যাতে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়। তবে সেই সীমা যেন অযথা মানুষের অধিকার খর্ব না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও ঝুঁকি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি-এর চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীনতাও অনলাইন সহিংসতা ও প্রতারণা বাড়াতে পারে। তাই আইন, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতার সমন্বয় প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ধান রোপণের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

বিশেষজ্ঞদের মত

মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম মনে করেন, এখন মূল প্রশ্ন ‘নিয়ন্ত্রণ হবে কি না’ নয়, বরং ‘কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে’। তিনি কার্যকর সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন তদারকি, তথ্য সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপে আরও অংশ নেন বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা। তারা সবাই সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ঢাকা ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন বেনাভোলেন্ট অর্থ বার এসোসিয়েশন ফান্ডে অর্থ প্রদান করলেন জনাব মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। আইডি নম্বর S01731

দেশের সাইবার জগতের বড় অংশই ‘বট’, সতর্ক করলেন উপদেষ্টা

আপডেটের সময়: ০৯:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে দেশের সাইবার পরিসর নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাফিকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রকৃত ব্যবহারকারীর নয়, বরং ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম দ্বারা তৈরি।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া বা সাইবার বুলিং বিশ্লেষণ করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনটা বাস্তব ব্যবহারকারী আর কোনটা কৃত্রিম—এই পার্থক্য নির্ধারণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আয়োজিত বহুপক্ষীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  বিগত ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির

সাইবার নিরাপত্তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে

উপদেষ্টা স্বীকার করেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী নয়। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের বড় অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত হওয়ায় শুধুমাত্র সরকারি নিরাপত্তা জোরদার করলেই পুরোপুরি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোও বট সমস্যার কথা স্বীকার করেছে এবং অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।

আইনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের গুরুত্ব

সংলাপে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ জোয়ান বারাতা বলেন, সাইবার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, অনলাইনে মতপ্রকাশকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সীমিত করা উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ  চীনের এআই জোট ‘ওয়াইকো’তে পর্যবেক্ষক হিসেবে যুক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা অফলাইনে অপরাধ, তা অনলাইনেও অপরাধ—এর বাইরে বাড়তি কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা ঠিক নয়।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য

UNESCO-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু সীমা থাকা প্রয়োজন, যাতে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়। তবে সেই সীমা যেন অযথা মানুষের অধিকার খর্ব না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও ঝুঁকি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি-এর চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীনতাও অনলাইন সহিংসতা ও প্রতারণা বাড়াতে পারে। তাই আইন, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতার সমন্বয় প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  গাজীপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, খালু গ্রেপ্তার

বিশেষজ্ঞদের মত

মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম মনে করেন, এখন মূল প্রশ্ন ‘নিয়ন্ত্রণ হবে কি না’ নয়, বরং ‘কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে’। তিনি কার্যকর সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন তদারকি, তথ্য সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপে আরও অংশ নেন বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা। তারা সবাই সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।