ঢাকা ১১:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিগত ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির ‘জামিনে মুক্ত’ বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইটবোঝাই বাল্কহেডের ওপর ভেঙে পড়ল বেইলি সেতু ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু সামগ্রিকভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার: আসিফ মাহমুদ ‘দ্য ওডিসি’র দাপট: ৩০ মিনিটেই শেষ বিএফআই আইম্যাক্সের সব টিকিট যশোরে অস্ত্র-পোশাকসহ তিন ভুয়া বিজিবি সদস্য গ্রেপ্তার পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফিফা কাউন্সিলে বিদ্রোহের মুখে ইনফান্তিনো, সভাপতি পদ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা যোগদান ও পদায়নের তারিখ ঘোষণার পর শাহবাগ ছাড়লেন প্রাথমিকে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

দেশের সাইবার জগতের বড় অংশই ‘বট’, সতর্ক করলেন উপদেষ্টা

সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে সংলাপে অতিথি ও আলোচকেরা। আজ বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে দেশের সাইবার পরিসর নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাফিকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রকৃত ব্যবহারকারীর নয়, বরং ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম দ্বারা তৈরি।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া বা সাইবার বুলিং বিশ্লেষণ করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনটা বাস্তব ব্যবহারকারী আর কোনটা কৃত্রিম—এই পার্থক্য নির্ধারণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আয়োজিত বহুপক্ষীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু

সাইবার নিরাপত্তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে

উপদেষ্টা স্বীকার করেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী নয়। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের বড় অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত হওয়ায় শুধুমাত্র সরকারি নিরাপত্তা জোরদার করলেই পুরোপুরি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোও বট সমস্যার কথা স্বীকার করেছে এবং অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।

আইনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের গুরুত্ব

সংলাপে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ জোয়ান বারাতা বলেন, সাইবার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, অনলাইনে মতপ্রকাশকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সীমিত করা উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ  মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে নতুন দায়িত্বে ৫ নেতা, পুনর্গঠিত হলো নির্বাহী কমিটি

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা অফলাইনে অপরাধ, তা অনলাইনেও অপরাধ—এর বাইরে বাড়তি কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা ঠিক নয়।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য

UNESCO-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু সীমা থাকা প্রয়োজন, যাতে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়। তবে সেই সীমা যেন অযথা মানুষের অধিকার খর্ব না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও ঝুঁকি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি-এর চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীনতাও অনলাইন সহিংসতা ও প্রতারণা বাড়াতে পারে। তাই আইন, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতার সমন্বয় প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ৪-৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

বিশেষজ্ঞদের মত

মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম মনে করেন, এখন মূল প্রশ্ন ‘নিয়ন্ত্রণ হবে কি না’ নয়, বরং ‘কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে’। তিনি কার্যকর সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন তদারকি, তথ্য সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপে আরও অংশ নেন বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা। তারা সবাই সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিগত ফ্যাসিবাদের দেখানো পথেই হাঁটছে সরকার: জামায়াত আমির

দেশের সাইবার জগতের বড় অংশই ‘বট’, সতর্ক করলেন উপদেষ্টা

আপডেটের সময়: ০৯:০৬:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

রাজধানীতে আয়োজিত এক সংলাপে দেশের সাইবার পরিসর নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, বাংলাদেশের অনলাইন ট্রাফিকের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রকৃত ব্যবহারকারীর নয়, বরং ‘বট’ বা স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম দ্বারা তৈরি।

তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া বা সাইবার বুলিং বিশ্লেষণ করলে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকে। অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোনটা বাস্তব ব্যবহারকারী আর কোনটা কৃত্রিম—এই পার্থক্য নির্ধারণ করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ে আয়োজিত বহুপক্ষীয় সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুনঃ  ৪-৫ বছরের মধ্যে অর্থনীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তনের আশা, উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

সাইবার নিরাপত্তা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে

উপদেষ্টা স্বীকার করেন, দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি শক্তিশালী নয়। সরকারি-বেসরকারি উভয় খাতেই বড় ধরনের দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের বড় অংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত হওয়ায় শুধুমাত্র সরকারি নিরাপত্তা জোরদার করলেই পুরোপুরি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, বড় প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোও বট সমস্যার কথা স্বীকার করেছে এবং অনেক ভুয়া অ্যাকাউন্ট ইতোমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে।

আইনে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের গুরুত্ব

সংলাপে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ জোয়ান বারাতা বলেন, সাইবার আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মান বজায় রাখা জরুরি। তার মতে, অনলাইনে মতপ্রকাশকে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সীমিত করা উচিত নয়।

আরও পড়ুনঃ  মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টে নতুন দায়িত্বে ৫ নেতা, পুনর্গঠিত হলো নির্বাহী কমিটি

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যা অফলাইনে অপরাধ, তা অনলাইনেও অপরাধ—এর বাইরে বাড়তি কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা ঠিক নয়।”

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নিয়ন্ত্রণের ভারসাম্য

UNESCO-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি সুজান ভাইজ বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গুরুত্বপূর্ণ হলেও কিছু সীমা থাকা প্রয়োজন, যাতে সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি না হয়। তবে সেই সীমা যেন অযথা মানুষের অধিকার খর্ব না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

নিয়ন্ত্রণ না থাকলেও ঝুঁকি

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বা বিটিআরসি-এর চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারী বলেন, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি নিয়ন্ত্রণহীনতাও অনলাইন সহিংসতা ও প্রতারণা বাড়াতে পারে। তাই আইন, প্রযুক্তি ও জনসচেতনতার সমন্বয় প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  দিনভর বাধার পর রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির মামলা, আসামি ১১

বিশেষজ্ঞদের মত

মানবাধিকারকর্মী শহিদুল আলম মনে করেন, এখন মূল প্রশ্ন ‘নিয়ন্ত্রণ হবে কি না’ নয়, বরং ‘কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে’। তিনি কার্যকর সাইবার শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্বাধীন তদারকি, তথ্য সুরক্ষা এবং স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সংলাপে আরও অংশ নেন বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধি ও বিশেষজ্ঞরা। তারা সবাই সম্মিলিতভাবে একটি নিরাপদ, দায়িত্বশীল এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।