একসময় যে দেশকে ‘ফুটবলের স্বর্গ’ বলা হতো, সেই ব্রাজিলেই এখন ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ কমছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৩৬ শতাংশ মানুষের ফুটবলের প্রতি এখন আর কোনো আগ্রহ নেই, যা ব্রাজিলের ফুটবল সংস্কৃতির জন্য উদ্বেগের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জরিপে দেখা যায়, ২০২৩ সালে যেখানে ২৮ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে অনাগ্রহী ছিলেন, ২০২৬ সালে সেই হার বেড়ে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে অনাগ্রহী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় দলের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, বিশ্বমানের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম তারকার অভাব এবং বড় আসরগুলোতে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে সমর্থকদের একাংশ ধীরে ধীরে ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। মাঠের সাফল্যের সঙ্গে দর্শকদের আগ্রহের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও মনে করছেন তারা।
২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিল রাউন্ড অব সিক্সটিন থেকেই বিদায় নেয়। ১৯৯০ সালের পর এবারই প্রথম এত দ্রুত বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই ব্যর্থতার প্রভাব দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনোভাবেও পড়েছে বলে জরিপে উঠে এসেছে।
বিশ্বকাপ ফাইনালের কয়েকদিন পর, ২২ ও ২৩ জুলাই ডাটাফোলহা পরিচালিত জরিপে ব্রাজিলের পাঁচটি অঞ্চলের ১৩৯টি পৌরসভায় ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী ২ হাজার ৪ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়।
জরিপ অনুযায়ী, এখনও ৬৪ শতাংশ ব্রাজিলিয়ান কোনো না কোনোভাবে ফুটবল অনুসরণ করেন। এর মধ্যে ২৮ শতাংশ ফুটবলের প্রতি অত্যন্ত আগ্রহী, ৩৫ শতাংশ কিছুটা আগ্রহী এবং ৩৬ শতাংশ একেবারেই আগ্রহী নন।
এছাড়া দেখা গেছে, পুরুষদের মধ্যে ফুটবল অনুসরণের হার ৭৭ শতাংশ, যেখানে নারীদের ক্ষেত্রে তা ৫২ শতাংশ।
উল্লেখ্য, ব্রাজিল সর্বশেষ ২০১৯ সালে কোপা আমেরিকা জিতেছিল। আর বিশ্বকাপে তাদের শেষ শিরোপা আসে ২০০২ সালে। এরপর ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠলেও আর বিশ্বমঞ্চে বড় কোনো সাফল্য পায়নি দলটি। ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, মাঠে ধারাবাহিক সাফল্যই আবারও ব্রাজিলের ফুটবলের প্রতি মানুষের আগ্রহ ফিরিয়ে আনতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 




















