নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত দেশটির পুলিশের দেওয়া সর্বশেষ হিসাবে এ তথ্য জানা গেছে। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কাঠমান্ডু পোস্টকে নেপাল পুলিশের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে। পুলিশের মুখপাত্র অভি নারায়ণ কাফলে সংশোধিত মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে পুলিশের দেওয়া হিসাবে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৮৯ জন। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মৃতের তালিকায় আরও ৪৩ জন যুক্ত হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চিতওয়ানে ১২১ জন, নওয়ালপরাসি পূর্বে ৭৪ জন, ধাদিঙ ও গোর্খায় ২৯ জন করে, নুয়াকোটে ২৮ জন, তানাহুনে ১৯ জন, রাসুয়ায় ১৭ জন এবং নওয়ালপরাসি পশ্চিমে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এখনো নিখোঁজ ৯০০-এর বেশি
নেপাল-তিব্বত সীমান্ত এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে নেপালের সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
দুর্গম ও দুর্গত এলাকাগুলোতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ক্ষয়ক্ষতির হিসাব তৈরির কাজও চলছে।
হিমবাহ ধস থেকেই ভয়াবহ জলস্রোত
প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পকে এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য কারণ মনে করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানায়, হিমবাহের বরফ, পাথর ও মাটির ধস থেকে এই ভয়াবহ জলস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রবল স্রোত রাসুয়াসহ বিভিন্ন জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গিয়ে ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী ব্যবস্থার দিকে নেমে যায়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকার বসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম এলাকাগুলোতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। নিখোঁজদের সন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















