ঢাকা ০৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শাকিবের নতুন সিনেমা: নায়িকা কে? সাবিলাকে নিয়ে গুঞ্জনে যা বললেন প্রযোজক প্রথমবার জুটি বাঁধলেন তৌসিফ-মালাইকা, আসছে নতুন নাটক ‘আমার রাজ্যে তুমি’ চট্টগ্রাম বন্দরে জলদস্যু আতঙ্ক: ১৮ দিনে ৩ জাহাজে হামলা, লুট প্রায় ১০ কোটি টাকার মালামাল ২০২৭ বিশ্বকাপের ১২ ভেন্যু চূড়ান্ত, ফাইনাল হতে পারে ওয়ান্ডারার্স বা নিউল্যান্ডসে ‘আসিফ-আখতারদের মেস ভাড়া তুলতে মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতাম’—রাশেদ খাঁন ‘জুলাই ব্যবসা’ মন্তব্যে নতুন বিতর্ক: যা বললেন এমপি ডা. মাহমুদা মিতু সেউতা অভিবাসন সংকট: জরুরি বৈঠকে বসছে ইইউ, সীমান্ত নিরাপত্তায় জোর গাজীপুরে ১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, খালু গ্রেপ্তার ১৮ বছরেও মেলেনি ফ্ল্যাট, ডোম-ইনোর বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে নিঃস্ব শতাধিক পরিবার দুপুরের মধ্যেই তিন জেলায় ঝড়-বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

ফুটবলে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ কী, কীভাবে কার্যকর হয় এই নিয়ম?

ফুটবল ম্যাচে ফাউল বা অসদাচরণের দায়ে রেফারি খেলোয়াড়দের হলুদ কিংবা লাল কার্ড দেখান। তবে কখনও কখনও প্রকৃত অপরাধীকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পেরে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়। ফুটবলের ভাষায় এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ (Mistaken Identity) বা ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ।

একসময় এমন ভুলের কারণে নিরপরাধ খেলোয়াড়কে শাস্তি পেতে হতো। পরে সংশ্লিষ্ট দলকে আপিলের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে হতো। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) চালুর পর এ ধরনের ভুল তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইএফএবির নিয়ম কী বলছে?

ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর ল’–৫ (রেফারি) এবং ভিএআর প্রোটোকলের আওতায় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ বিষয়টি পরিচালিত হয়।

প্রথমদিকে এই নিয়মের আওতায় কেবল তখনই ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারত, যখন রেফারি একই দলের একজনের পরিবর্তে ভুলবশত আরেক সতীর্থকে হলুদ বা লাল কার্ড দেখাতেন। অর্থাৎ, ভুল শনাক্তকরণ যদি একই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তবেই সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ ছিল।

আরও পড়ুনঃ  কুয়াকাটায় ধরা পড়ল ২৯ কেজির ইয়েলোফিন টুনা, বিক্রি হলো ৪০ হাজার টাকায়

তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে আইএফএবি নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন প্রতিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড় ভুলবশত কার্ড পেলে কিংবা প্রকৃত অপরাধী অন্য দলের খেলোয়াড় হলে, ভিএআরের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তও সংশোধন করা যাবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, রেফারি যদি কোনো ঘটনার জন্য স্পষ্টভাবে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, তাহলে সেটি ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় শুধু ভুল খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার বিষয়টি সংশোধন করা হয়; মূল অপরাধের ধরন নতুন করে মূল্যায়ন করা হয় না।

কেন আনা হলো এই পরিবর্তন?

আগের নিয়মে শুধু একই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভুল শনাক্তকরণের ঘটনা সংশোধনের সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ও একই সুরক্ষা পাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় পুলিশের যানবাহনে দেশজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার

উদাহরণ হিসেবে, রেফারি যদি মনে করেন একজন ডিফেন্ডার ফাউল করেছেন এবং তাকে হলুদ কার্ড দেখান, কিন্তু পরে ভিএআরের ফুটেজে দেখা যায় যে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ডাইভিং (সিমুলেশন) করে রেফারিকে বিভ্রান্ত করেছেন, তাহলে রেফারি ডিফেন্ডারের কার্ড বাতিল করে ডাইভিংয়ের দায়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাতে পারবেন।

মাঠে যেভাবে কার্যকর হয় নিয়মটি

প্রথম ধাপ: মাঠের রেফারিকে আগে কোনো একজন খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখাতে হবে। কার্ড দেখানোর আগে ভিএআর এ বিষয়ে নিজ থেকে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

দ্বিতীয় ধাপ: কার্ড প্রদর্শনের পর ভিএআর ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়, শাস্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ই প্রকৃত অপরাধী কি না।

তৃতীয় ধাপ: যদি দেখা যায় ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেয়। মনিটরে ফুটেজ দেখে রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন।

আরও পড়ুনঃ  আদালতে আবেগঘন মন্তব্য লতিফ সিদ্দিকীর, ‘ফাঁসি দিয়ে দিন, আমি প্রস্তুত’

চলতি বিশ্বকাপে দুইবার প্রয়োগ

চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুইবার ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে।

প্রথম ঘটনা ঘটে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে। ওই ম্যাচে মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিমকে ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। পরে ভিএআরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন ডাইভিংয়ের মাধ্যমে রেফারিকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। এরপর রিমের কার্ড বাতিল করে আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

দ্বিতীয়বার নিয়মটি ব্যবহার করা হয় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে। ব্রিল এমবোলোর ডাইভিংয়ের ঘটনা পর্যালোচনার পর রেফারি নিজের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ প্রোটোকল অনুযায়ী প্রকৃত খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

শাকিবের নতুন সিনেমা: নায়িকা কে? সাবিলাকে নিয়ে গুঞ্জনে যা বললেন প্রযোজক

ফুটবলে ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ কী, কীভাবে কার্যকর হয় এই নিয়ম?

আপডেটের সময়: ০৯:২৫:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ফুটবল ম্যাচে ফাউল বা অসদাচরণের দায়ে রেফারি খেলোয়াড়দের হলুদ কিংবা লাল কার্ড দেখান। তবে কখনও কখনও প্রকৃত অপরাধীকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পেরে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখানো হয়। ফুটবলের ভাষায় এই পরিস্থিতিকে বলা হয় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ (Mistaken Identity) বা ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ।

একসময় এমন ভুলের কারণে নিরপরাধ খেলোয়াড়কে শাস্তি পেতে হতো। পরে সংশ্লিষ্ট দলকে আপিলের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে হতো। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) চালুর পর এ ধরনের ভুল তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

আইএফএবির নিয়ম কী বলছে?

ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ড (আইএফএবি)-এর ল’–৫ (রেফারি) এবং ভিএআর প্রোটোকলের আওতায় ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ বিষয়টি পরিচালিত হয়।

প্রথমদিকে এই নিয়মের আওতায় কেবল তখনই ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারত, যখন রেফারি একই দলের একজনের পরিবর্তে ভুলবশত আরেক সতীর্থকে হলুদ বা লাল কার্ড দেখাতেন। অর্থাৎ, ভুল শনাক্তকরণ যদি একই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তবেই সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ ছিল।

আরও পড়ুনঃ  দেশের সব বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী

তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে আইএফএবি নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন প্রতিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড় ভুলবশত কার্ড পেলে কিংবা প্রকৃত অপরাধী অন্য দলের খেলোয়াড় হলে, ভিএআরের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তও সংশোধন করা যাবে।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, রেফারি যদি কোনো ঘটনার জন্য স্পষ্টভাবে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, তাহলে সেটি ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এ প্রক্রিয়ায় শুধু ভুল খেলোয়াড়কে শনাক্ত করার বিষয়টি সংশোধন করা হয়; মূল অপরাধের ধরন নতুন করে মূল্যায়ন করা হয় না।

কেন আনা হলো এই পরিবর্তন?

আগের নিয়মে শুধু একই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভুল শনাক্তকরণের ঘটনা সংশোধনের সুযোগ ছিল। নতুন নিয়মে প্রতিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ও একই সুরক্ষা পাচ্ছেন।

আরও পড়ুনঃ  উন্মোচনের আগেই ফাঁস আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের সম্ভাব্য ফিচার, থাকছে শক্তিশালী চিপ ও ক্যামেরায় বড় আপগ্রেড

উদাহরণ হিসেবে, রেফারি যদি মনে করেন একজন ডিফেন্ডার ফাউল করেছেন এবং তাকে হলুদ কার্ড দেখান, কিন্তু পরে ভিএআরের ফুটেজে দেখা যায় যে আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ডাইভিং (সিমুলেশন) করে রেফারিকে বিভ্রান্ত করেছেন, তাহলে রেফারি ডিফেন্ডারের কার্ড বাতিল করে ডাইভিংয়ের দায়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাতে পারবেন।

মাঠে যেভাবে কার্যকর হয় নিয়মটি

প্রথম ধাপ: মাঠের রেফারিকে আগে কোনো একজন খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখাতে হবে। কার্ড দেখানোর আগে ভিএআর এ বিষয়ে নিজ থেকে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।

দ্বিতীয় ধাপ: কার্ড প্রদর্শনের পর ভিএআর ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে নিশ্চিত হয়, শাস্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়ই প্রকৃত অপরাধী কি না।

তৃতীয় ধাপ: যদি দেখা যায় ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেয়। মনিটরে ফুটেজ দেখে রেফারি আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করেন এবং প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন।

আরও পড়ুনঃ  শক্তিশালী ভূমিকম্পে ইতালির নেপলসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

চলতি বিশ্বকাপে দুইবার প্রয়োগ

চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুইবার ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে।

প্রথম ঘটনা ঘটে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে। ওই ম্যাচে মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিমকে ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। পরে ভিএআরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন ডাইভিংয়ের মাধ্যমে রেফারিকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। এরপর রিমের কার্ড বাতিল করে আলমিরনকে হলুদ কার্ড দেখানো হয়।

দ্বিতীয়বার নিয়মটি ব্যবহার করা হয় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে। ব্রিল এমবোলোর ডাইভিংয়ের ঘটনা পর্যালোচনার পর রেফারি নিজের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং ‘মিসটেকেন আইডেন্টিটি’ প্রোটোকল অনুযায়ী প্রকৃত খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।