বগুড়ায় আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্র। সুন্দরী নারীর প্রলোভনে ফেলে মানুষকে নির্জন স্থানে ডেকে এনে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি বগুড়া শহরের বৃন্দাবনপাড়া এলাকায় এমনই এক ঘটনায় এক যুবক ও তার তিন বন্ধুকে আটকে রেখে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এ ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং উদ্ধার করা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আজম আলীর সঙ্গে কয়েক মাস আগে মোবাইল ফোনে পরিচয় হয় আঁখি খাতুন ও তার স্বামী লিটন মিয়া ওরফে রফিকুল ইসলামের। পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে। গত ২ জুলাই সন্ধ্যায় আজম আলী তার তিন বন্ধুকে নিয়ে বৃন্দাবনপাড়ায় লিটনের ভাড়া বাসায় দেখা করতে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের একটি কক্ষে আটকে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ দিতে অস্বীকৃতি জানালে চারজনকে মারধর করা হয়। পরে বাধ্য হয়ে আজম আলী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করেন। এরপর বিভিন্ন বিকাশ নম্বরে ৩৯ হাজার ৯৯০ টাকা ক্যাশ আউট করা হয়। এছাড়া তাদের কাছে থাকা আরও প্রায় ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় চক্রটি। পরদিন সকালে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
মুক্তি পাওয়ার পর ভুক্তভোগীরা বগুড়া সদর থানায় অভিযোগ করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আঁখি খাতুনকে গ্রেপ্তার করে এবং মুক্তিপণের ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তিনজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইব্রাহীম আলী জানান, গ্রেপ্তার হওয়া আঁখি খাতুন হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য। তার স্বামী লিটন মিয়া ওরফে রফিকুল ইসলাম এবং সহযোগী লাকি বেগম পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি মো. ইকবাল বাহার বলেন, বগুড়ায় হানি ট্র্যাপ চক্রের বিরুদ্ধে সাইবার ইউনিট নিয়মিত কাজ করছে। প্রায়ই এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অপরিচিত কোনো নারী হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল দিলে তা গ্রহণ না করাই নিরাপদ। অনেক ক্ষেত্রে ভিডিও কল রেকর্ড বা স্ক্রিনশট নিয়ে পরে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করা হয়। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ছবি বা ভিডিও ব্যবহার করে প্রতারক চক্র বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং ব্যক্তিগত ভিডিও বা কথোপকথন সংগ্রহ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করে।
পুলিশের পরামর্শ, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপ, ভিডিও কল বা গোপন তথ্য শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। এমন প্রতারণার শিকার হলে ভয় না পেয়ে দ্রুত পুলিশের সাইবার ইউনিট বা নিকটস্থ থানার সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা।
প্রতিবেদকের নাম 




















