যশোরের কেশবপুরে বাবার মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রেখে কবরের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো সেই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার বৃদ্ধা মাকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্বামীকে হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন নুরজাহান বেগম। বর্তমানে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সকালে কেশবপুর উপজেলার সন্যাসগাছা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরপর দুই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার সকালে নুরজাহান বেগমের স্বামী খালেক মানের মরদেহ বাড়ির বারান্দায় রাখা ছিল। স্বজনরা যখন দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন কবরের জায়গা নিয়ে দুই ছেলে মাহবুর রহমান ও আসাবুর রহমানের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের পাঁচজন আহত হন। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নুরজাহান বেগমকে ভিটেবাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে। স্বামীকে হারানোর শোকের মধ্যেই নিজের বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন তিনি।
পরে মেয়ে নাছিমা বেগমের বাড়িতে আশ্রয় নেন নুরজাহান। পাঁজিয়া ইউনিয়নের গড়ভাঙ্গা গ্রামে মেয়ের বাড়িটি তার নিজের ভিটা থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে। নুরজাহানের মেয়েজামাই নজরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে তিনি তাদের বাড়িতেই অবস্থান করছেন।
এদিকে আসাবুর রহমানের ছেলে আল আমিন জানান, চিকিৎসার জন্য তার বাবা বাইরে রয়েছেন। বড় চাচা মামলা করেছেন শুনে তিনি বাড়িতে আসেননি। তবে তার দাদি বর্তমানে কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।
ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও নজরে এসেছে। গৌরীঘোনা ইউনিয়ন পরিষদের সন্যাসগাছা ওয়ার্ডের সদস্য পংকজ চক্রবর্তী বলেন, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। স্থানীয়ভাবে বসে ঘটনাটি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
কেশবপুর থানার ওসি রোকসানা খাতুন বলেন, সন্যাসগাছায় মাকে বাড়িতে ঢুকতে না দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে নুরজাহান বেগম অভিযোগ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















