আন্তর্জাতিক বাজারে হঠাৎ করেই স্বর্ণের দামে উল্লেখযোগ্য পতন লক্ষ্য করা গেছে, যার প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সপ্তাহের শুরুতে স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,৫২৩ ডলারের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারও ২ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপের কারণে বিনিয়োগকারীরা এখনও আস্থা ফিরে পাচ্ছেন না। পাশাপাশি সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে—এমন আশঙ্কাও স্বর্ণের দামে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও বাজারে প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলছে। এর মধ্যে মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার তুলনায় স্বর্ণ কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে, ফলে চাহিদা কমে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত অনিশ্চয়তার সময়ে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এতে সরাসরি আয় না থাকায় অনেক বিনিয়োগকারী আগ্রহ হারাচ্ছেন।
অন্যদিকে, শুধু স্বর্ণই নয়—রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও একই ধরনের নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারেও দামের সমন্বয় হতে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মিল রেখে স্থানীয় বাজারে স্বর্ণের মূল্য নির্ধারণ করে থাকে।
বর্তমানে দেশে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি ভরি ২ লাখ ৪২ হাজার টাকার বেশি, আর অন্যান্য ক্যারেট অনুযায়ী দামও ভিন্ন ভিন্ন রয়েছে। তবে বিশ্ববাজারে পতনের ধারাবাহিকতা থাকলে সামনে স্থানীয় বাজারে দাম কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















