ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন:
📰 Dainikbishawsongbad.com— দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ খবর, ব্রেকিং নিউজ, রাজনীতি, খেলাধুলা, বিনোদন, আন্তর্জাতিক সংবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সকল আপডেট পেতে প্রতিদিন ভিজিট করুন 🌍 নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত সংবাদ পরিবেশনে আমরা সবসময় আপনার পাশে। 📢 আপনার ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য ব্যানার বিজ্ঞাপন ও স্পন্সর পোস্ট সুবিধা রয়েছে। 🌐 DainikBishwaSongbad.com

বিশ্ব রক্তদান দিবস আজ: রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে যারা নিরবে অবদান রাখছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করতেই বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়।

২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ যেকোনো ব্যক্তি, যার ওজন কমপক্ষে ৪৫ কেজি, তিনি চার মাস পরপর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করতে রক্তদাতাকে অবশ্যই কয়েকটি সংক্রামক রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, রক্তদানের আগে অন্তত পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের উপস্থিতি পরীক্ষা করা জরুরি। রোগগুলো হলো—

  • হেপাটাইটিস বি
  • হেপাটাইটিস সি
  • এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস)
  • ম্যালেরিয়া
  • সিফিলিস

এসব রোগের স্ক্রিনিংয়ে ফলাফল নেগেটিভ হলে তবেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে সঞ্চালন করা হয়। পাশাপাশি রোগী ও রক্তদাতার রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে ক্রসম্যাচিং করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বাগেরহাটে, উন্নয়ন ও সমস্যা সমাধানের আশায় জেলাবাসী

এছাড়া রক্তদানের উপযোগিতা নির্ধারণে রক্তদাতার ওজন, শরীরের তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ এবং রক্তস্বল্পতা আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্যাপ্ত রক্ত শরীরকে সচল ও কর্মক্ষম রাখে। অন্যদিকে রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, নিয়মিত রক্তদান উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  ‘আই হেট পলিটিক্স’ নয়, তরুণদের রাজনীতিতে আসতে হবে: হান্নান মাসউদ

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সক্রিয় থাকে। এতে হঠাৎ রক্তক্ষরণ বা দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে শরীর দ্রুত রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে রক্তদানের সময় বিভিন্ন সংক্রামক রোগের পরীক্ষা হওয়ায় রক্তদাতাও নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বেচ্ছায় নিরাপদ রক্তদান শুধু অন্যের জীবন বাঁচায় না, বরং রক্তদাতার স্বাস্থ্য সচেতনতাও বৃদ্ধি করে। তাই মানবতার সেবায় সবাইকে নিয়মিত ও নিরাপদ রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

T ag

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

জনপ্রিয় পোস্ট

বিশ্ব রক্তদান দিবস আজ: রক্তদাতাকে পাঁচ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে

আপডেটের সময়: ০৬:৩৯:১৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

আজ ১৪ জুন বিশ্ব রক্তদান দিবস। স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখো মানুষের জীবন বাঁচাতে যারা নিরবে অবদান রাখছেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো এবং সাধারণ মানুষকে রক্তদানে উৎসাহিত করতেই বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালন করা হয়।

২০০৫ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য অধিবেশনের সিদ্ধান্তের পর থেকে প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দিবসটি পালনের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ যেকোনো ব্যক্তি, যার ওজন কমপক্ষে ৪৫ কেজি, তিনি চার মাস পরপর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। তবে নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন নিশ্চিত করতে রক্তদাতাকে অবশ্যই কয়েকটি সংক্রামক রোগ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  “ষাট গম্বুজ মসজিদ: বাংলাদেশের গর্ব, বিশ্বের অমূল্য সম্পদ”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, রক্তদানের আগে অন্তত পাঁচটি রক্তবাহিত রোগের উপস্থিতি পরীক্ষা করা জরুরি। রোগগুলো হলো—

  • হেপাটাইটিস বি
  • হেপাটাইটিস সি
  • এইচআইভি (এইডসের ভাইরাস)
  • ম্যালেরিয়া
  • সিফিলিস

এসব রোগের স্ক্রিনিংয়ে ফলাফল নেগেটিভ হলে তবেই সেই রক্ত রোগীর শরীরে সঞ্চালন করা হয়। পাশাপাশি রোগী ও রক্তদাতার রক্তের গ্রুপ মিলিয়ে ক্রসম্যাচিং করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

আরও পড়ুনঃ  “ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হারমিত ধিলনের পদত্যাগ: নাগরিক অধিকার বিভাগে বিতর্কিত অধ্যায়ের ইতি”

এছাড়া রক্তদানের উপযোগিতা নির্ধারণে রক্তদাতার ওজন, শরীরের তাপমাত্রা, নাড়ির গতি, রক্তচাপ এবং রক্তস্বল্পতা আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয়।

রক্ত মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। পর্যাপ্ত রক্ত শরীরকে সচল ও কর্মক্ষম রাখে। অন্যদিকে রক্তস্বল্পতা দেখা দিলে শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।

বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, নিয়মিত রক্তদান উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখে। ফলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমে যেতে পারে।

আরও পড়ুনঃ  খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত রক্তদান করলে অস্থিমজ্জা নতুন রক্তকণিকা তৈরিতে সক্রিয় থাকে। এতে হঠাৎ রক্তক্ষরণ বা দুর্ঘটনার মতো পরিস্থিতিতে শরীর দ্রুত রক্তের ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম হয়। একই সঙ্গে রক্তদানের সময় বিভিন্ন সংক্রামক রোগের পরীক্ষা হওয়ায় রক্তদাতাও নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বেচ্ছায় নিরাপদ রক্তদান শুধু অন্যের জীবন বাঁচায় না, বরং রক্তদাতার স্বাস্থ্য সচেতনতাও বৃদ্ধি করে। তাই মানবতার সেবায় সবাইকে নিয়মিত ও নিরাপদ রক্তদানে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।