রাজধানীর যানজট কমাতে মহাখালী বাস টার্মিনালে দীর্ঘসময় অলস পড়ে থাকা বাসগুলো পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম আবারও জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বাস স্থানান্তরের প্রক্রিয়া তদারকি করছেন ট্রাফিক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই এলাকায় টার্মিনালসংলগ্ন সড়কে দীর্ঘসময় বাস দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতি কমাতে যেসব বাসের তাৎক্ষণিক ট্রিপ নেই, সেগুলো মহাখালীতে না রেখে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পূর্বাচলের ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ীভাবে একটি ডিপো প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৫০টি বাস রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি চালক ও হেলপারদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে।
ঢাকা ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানান, আগামী তিন মাসের মধ্যে পূর্বাচলের ডিপোটির ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে প্রায় ৬০০ বাস রাখার ব্যবস্থা করা হবে। এই সক্ষমতা নিশ্চিত করা গেলে মহাখালী বাস টার্মিনালের সামনের সড়কে বাস দাঁড়িয়ে থাকার প্রবণতা কমবে এবং যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, যেসব বাসের ট্রিপ থাকবে না সেগুলো পূর্বাচলের ডিপোতে অবস্থান করবে। ট্রিপের সময় হলে নির্ধারিত সিরিয়াল অনুযায়ী বাসগুলো মহাখালী টার্মিনালে এসে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। এর ফলে টার্মিনাল এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাস জমে থাকার পরিস্থিতি কমবে।
এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে ২০টি বাস পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। পরে মহাখালী এলাকায় দীর্ঘসময় দাঁড়িয়ে থাকা আরও কিছু বাসকে পূর্বাচলে পাঠানো হয়।
তবে পূর্বাচলের ডিপো ব্যবহারে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের নানা আপত্তির কথাও এর আগে সামনে এসেছে। অতিরিক্ত জ্বালানি খরচ, পর্যাপ্ত ওয়ার্কশপ সুবিধা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সেখানে বাস রাখতে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় মহাখালী বাস টার্মিনালকে আরও দূরের এলাকায় স্থানান্তরের বিষয়টিও রয়েছে। এর আগে মহাখালী, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল নিয়ে পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছিল।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, মহাখালী টার্মিনালের সামনে অপ্রয়োজনীয় বাস পার্কিং কমানো গেলে ওই এলাকার যানজট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বাসগুলো নির্ধারিত ডিপোতে রাখার মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 




















