ঢাকার ব্যস্ত সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করার পাশাপাশি হকারদের জন্য সুশৃঙ্খল কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মূল সড়কে হকার বসতে পারবেন না। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নিবন্ধিত হকারদের ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।
নগর ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এ পরিকল্পনার কথা জানান।
মূল সড়ক থাকবে হকারমুক্ত
ডিএসসিসির প্রশাসক বলেন, ঢাকার মূল সড়কে কোনো হকার বসতে দেওয়া হবে না। তবে যেসব সড়কে প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেখানে পথচারীদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ফাঁকা রেখে নির্দিষ্টসংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।
এ ছাড়া অন্য হকারদের জন্য চালু করা হবে হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট। এর মাধ্যমে একদিকে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত রাখা হবে, অন্যদিকে হকারদের জীবিকার সুযোগও নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।
ছুটির দিনে হলিডে, রাতে নাইট মার্কেট
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছুটির দিনে নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু থাকবে নাইট মার্কেট।
প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য ও নাগরিকবান্ধব রাখতে হকার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনা জরুরি। সরকার নিবন্ধিত হকারদের জন্য স্থায়ী সমাধান দিতে চায়। তবে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা সব ভাসমান মানুষকে ঢাকায় হকার হিসেবে পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়।
নিবন্ধনে লাগবে ৫ হাজার টাকা
‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ অনুযায়ী, নির্ধারিত ফি দিয়ে হকারদের নিবন্ধন ও নিয়মিত নবায়ন করতে হবে।
এককালীন নিবন্ধন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা দিতে হবে।
আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক।
বারকোডে থাকবে হকারের পরিচয়
নিবন্ধিত হকারদের জন্য ব্যবসার স্থান ও সময় উল্লেখ করে বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর মাধ্যমে নিবন্ধিত হকারদের পরিচয় ও নির্ধারিত ব্যবসার স্থান সহজে যাচাই করা যাবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত এলাকার বাইরে ব্যবসা ঠেকাতেও এটি কাজে আসবে বলে মনে করছে সিটি করপোরেশন।
ফুটপাতে দেড় মিটার জায়গা খালি রাখতে হবে
নীতিমালা অনুযায়ী, ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য অন্তত ১ দশমিক ৫ মিটার জায়গা খালি রাখতে হবে।
হকারদের স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ জায়গা নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে।
এ ছাড়া স্থায়ী অবকাঠামো তৈরি, নির্ধারিত স্থানের বাইরে ব্যবসা করা কিংবা ময়লা-আবর্জনা ফেলার মতো নিয়মভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিয়ম ভাঙলে উচ্ছেদ, বাতিল হতে পারে নিবন্ধন
লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা কিংবা নির্ধারিত সীমানার বাইরে বসলে হকারকে উচ্ছেদ করা হতে পারে। একই সঙ্গে বাতিল হতে পারে নিবন্ধনও।
সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মহানগর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং হকার নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় পরিচ্ছন্ন, পথচারীবান্ধব ও যানজটমুক্ত ঢাকা গড়ে তুলতে হকার ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিবেদকের নাম 




















