সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিষধর সাপের কামড়ে তানজিম হাসান নামে তিন বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ আগস্ট) দিনগত রাত ২টার দিকে উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের সাহাপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে সাপে কামড় দেয়।
পরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সাড়ে ২টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়। তানজিম হাসান সাহাপুর গ্রামের মোশাররফ ঢালীর ছেলে।
তোশকের নিচে মিলল কালাচ সাপ
শিশুটির চাচা মোস্তফা ঢালী জানান, রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কামড়ানোর পর তানজিম কান্নাকাটি শুরু করলে তার বাবা-মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। এ সময় তারা শিশুটির শরীরে সাপে কামড়ানোর চিহ্ন দেখতে পান।
পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বিছানার তোশকের নিচে একটি কালাচ সাপ দেখতে পাওয়া যায়।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তিনি বাড়িতে না থাকায় এবং শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত তাকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই গুরুতর অবস্থা
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার সময় তার শারীরিক অবস্থা গুরুতর ছিল।
সাপে কামড়ানোর পর হাসপাতালে আনতে যথেষ্ট সময় লেগেছে বলে মনে হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
তবে সেখানে নেওয়ার পথে আশাশুনির বুধহাটা এলাকায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ
শিক্ষাবিদ ও গণমাধ্যমকর্মী নিয়াজ কওছার তুহিন বলেন, সাপে কাটার পর ওঝা বা কবিরাজের কাছে নিয়ে যাওয়ার মতো কুসংস্কারের কারণে অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা পেতে দেরি হয়। এতে রোগীর জীবন ঝুঁকিতে পড়ে।
তিনি বলেন, সাপে কামড়ানোর পর কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক বা কবিরাজি চিকিৎসায় সময় নষ্ট না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া উচিত।
প্রতিবেদকের নাম 



















